সেই মেটলাইফ স্টেডিয়াম, যেখানে এক দশক আগে চোখের জল গাল বেয়ে চুইয়ে পড়েছিল ঘাসের ওপর। কোপা আমেরিকার ফাইনাল হার, লিওনেল মেসির হৃদয়ে রক্তক্ষরণ। অভিমানে বিদায় বলার সেই সূচনা। দশ বছর পর ভাগ্য আরেকবার ফাইনালের মঞ্চে মুখ ফিরিয়ে নিল, জেতা হলো না আরও এক বিশ্বকাপ। লিওনেল মেসি ডিয়েগো ম্যারাডোনা হলেন বটে, তবে তাঁকে ছাড়িয়ে যেতে পারলেন কই?
নিজের ক্যারিয়ারে সব অর্জন, সব প্রাপ্তির ঘড়া পূরণ হয়েছে তো সেই বাইশেই। তবে সব শেষের পরে আরও কিছু তো বাকি থাকে, আবেগ থাকে, শেষ হওয়ার আক্ষেপও থাকে। সেটা ঘোচাতেই যেন আরও একবার বিস্ময়ের সবটা নিয়ে মেটলাইফে হাজির হয়েছিলেন মেসি।
ফাইনাল পর্যন্ত সে কী মোহ, বছর ১০ কিংবা ১৫ আগের সেই মেসি যেন আরও একবার ছুটছেন, পড়ে যাচ্ছেন, উঠে দাঁড়িয়ে শেষ দৌড়। একটা গোল, অ্যাসিস্ট আর তাতেই প্রতিপক্ষের লালিত স্বপ্নের সলিলসমাধি। ফাইনাল পর্যন্ত তাঁকে দমিয়ে রাখা যায়নি, তবে উপসংহার পর্যন্ত রাজত্ব করে আসা মেসির গল্পে দাঁড়ি টানল স্পেন।

ফাইনালে মেসিকে পাওয়া গেল না কোথাও। তিনি বোধহয় জাদুবাক্স রেখে এসেছিলেন সেমিফাইনালেই। পুরোটা সময় স্পেন নজরবন্দি করে রেখেছে তাঁকে, মেসিও বুঝে গিয়েছিলেন এই দিনটা তাঁকে ছেড়ে দিতে হবে, এই দিনটা ঈশ্বর তাঁকে দেননি যে।
টানা দ্বিতীয়বার ফাইনাল জেতা হলো না মেসির। সব জিতে নিয়েছেন, সব পেয়েছেন আগেই। তবুও তো একটা হিসাব ছিল। আর্জেন্টিনার সর্বকালের সেরা কে, মেসি নাকি ম্যারাডোনা? এই তর্কে প্রলেপ এঁটে দেওয়ার শেষ একটা সুযোগ ছিল মেসির সামনে। ১৯৮৬ সালে বিশ্বকাপ জেতানো ম্যারাডোনাও তো ৯০-এ এসে ফাইনালে তুলেছিলেন আর্জেন্টিনাকে। মেসি ২০২২-এ জিতে ২০২৬ সালে ফাইনালে তুললেন। জেতা আর হলো না, দুজনেই যে ভাগাভাগি করে বসলেন একই আসনে। ছাড়িয়ে যেতে আর পারলেন না লিওনেল মেসি।
নিয়তি এভাবেই গল্প লেখে, সবকিছু দেয় তবুও একটা কিছু যেন নেই। সেটা আর হবেও না কখনও। তবে ব্যাকস্পেস দিয়ে জীবনের এই ১২০ মিনিট যদি মুছে ফেলা যেত, যদি আরেকবার মেটলাইফে নামত দুই দল, তবুও কি ঈশ্বরের প্রিয় পাত্রের হাতে সোনার কাপটা উঠত না? কে জানে, কে রাখে ওসবের হিসাব। হয়তো মেসি রাখবেন, হয়তো মেটলাইফকে আজীবন ঘৃণা ভরে ভৎসনা করবেন। দশ বছর আগে যে বিদায়ের সুর ইতিহাস লেখার সূচনা করেছিল, দশ বছর পর একই সুর ইতিহাস লিখতে দিল না। এটাই জীবন, এটাও অপূর্ণতা। মেসিও যে মানুষ, ঈশ্বর নন। স্বয়ং ঈশ্বর আকাশের কোথাও বসে বুঝিয়ে দিলেন তা।











