শিকারের লিডারবোর্ডে, স্টার্ক এখন সবার উপরে

চোখে-মুখে এখনো তার ক্ষুধার উপস্থিতি। শিকারির সিংহাসনে তিনি একাই যে হতে চান অধিপতি। 

গোলাপী বলটা উঁচিয়ে ধরলেন মিচেল স্টার্ক। চোখে-মুখে নেই বিন্দুমাত্র বাড়তি উচ্ছ্বাস। এগুলো তার নিত্যদিনের কাজ। সাদা পোশাকে তিনি আবির্ভূত হবেন যমদূত হয়ে। উইকেট শিকারকে তিনি বানিয়ে ফেলেছেন ডাল-ভাত। ব্রিসবেন টেস্টে তিনি আদায় করে ফেলেছেন ক্যারিয়ারের ১৮তম ফাইফার। কিংবদন্তি ওয়াসিম আকরামকে ছাপিয়ে এখন সবার উপরে মিচেল স্টার্ক ।

সাদা পোশাকের মায়ায় পড়ে ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটের প্রলোভনকে নাকোচ করেছেন মিচেল স্টার্ক। অমর চরিত্র হওয়ার দূর্দান্ত উপায়। ইতিহাসের পাতায় নিজেকে এক ও অনন্য এক চরিত্রে পরিণত করে ফেলেছেন অস্ট্রেলিয়ান এই পেসার। সিডনি টেস্টের পর ব্রিসবেনেও ইংলিশদের দম্ভ চূর্ণের মহা উৎসবে মেতে উঠেছেন বা-হাতি পেসার।

গোলাপী বল হাতেও তিনি নিজের সাথে বাকিদের দূরত্ব বাড়িয়ে নিয়েছেন কয়েক হাত। ক্রমশ ধরা ছোঁয়ার বাইরে অনন্য উচ্চতায় নিজের প্রতিমূর্তি নিজেই গড়ে দিয়ে যাচ্ছেন। বা-হাতি পেসারদের মধ্যে টেস্টের উইকেট শিকারিদের তালিকায় তিনি পেছনে ফেলেছেন ওয়াসিম আকরামকে। সেই ২০০২ সালে ওয়াসিমের ফেলে যাওয়া ৪১৪ উইকেটের ট্যালিকে টপকে গেছেন মিচেল স্টার্ক।

অবাধ্য গতির আগ্রাসনে স্টার্কের ঝুলিতে এখন উইকেট আছে ৪১৮টি। সংখ্যাটা এখানেই থামছে না। এমনকি দিবারাত্রির টেস্টে তার সাথে সতীর্থ প্যাট ক্যামিন্সের ফারাকটা প্রায় অর্ধেকের বেশি। পিংক বলের ১৫ ম্যাচের ক্যারিয়ারে ব্রিসবেনে তিনি বাগিয়ে নিয়েছেন ষষ্ঠ ফাইফার। গতির উচ্চাঙ্গ সংগীতের একক প্রদর্শনীয় ঘটিয়েছেন গ্যাবায়। ইংল্যান্ডের প্রতিরোধের বুকে বারংবার তিনি দিয়েছেন আঘাত।

ছয় উইকেট নিয়ে গ্যাবার প্রথম দিন শেষ করেও হয়ত স্বস্তি নেই স্টার্কের। সফরকারীদের অলআউট করার টাস্কটা যে বাকি থেকে গেছে। ভাবলেশহীন ভঙ্গিমায় মিচেল স্টার্ক তাই ব্যক্তিগত অর্জনের আনন্দে মেতে ওঠেননি। চোখে-মুখে এখনো তার ক্ষুধার উপস্থিতি। শিকারির সিংহাসনে তিনি একাই যে হতে চান অধিপতি।

Share via
Copy link