বিশ্বকাপের শিরোপার দিকে নজর মরক্কোর!

গত বিশ্বকাপে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোদের শেষ আটে প্রস্থানের পথ দেখানো আফ্রিকান জায়ান্টরা এবার বাধা হয়ে আসতে চায় কিলিয়ান এমবাপ্পেদের সামনে। 

ইউরোপ আর লাতিন আমেরিকার পরাশক্তিদের নিয়ে হতে থাকা আলোচনার ভিড়ে অনেকটা নিঃশব্দেই যেন ফেভারিটের তকমা গায়ে তুলে নিয়েছে মরক্কো। এবারের বিশ্বকাপে তারা শুধু অপরাজিতই নয়, সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ৩৪ ম্যাচে তাদের অপরাজিত যাত্রা জানান দিচ্ছে, এবার বিশ্বকাপের ট্রফি যেতে পারে আফ্রিকায়। 

ব্রাজিলের বিপক্ষের ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করার পর থেকে প্রতিটি ম্যাচেই নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দিয়ে আসছে এই আফ্রিকান পরাশক্তিটি। নিজেদের শেষ ম্যাচে কানাডাকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে মরক্কো। 

আক্রমণভাগে যেমন ঝড় তুলতে পারেন ইসমাইল সাইবারিরা, ঠিক তেমনি প্রতিপক্ষের ফরোয়ার্ডদের নিজেদের রক্ষণে আটকে দেওয়ার এক অদ্ভুত শক্তি রয়েছে এই ‘অ্যাটলাস লায়ন্স’দের মাঝে। অধিনায়ক আশরাফ হাকিমির নেতৃত্বে মরক্কো তাই স্বপ্ন দেখছে বিশ্বকাপ প্রথমবারের মতো আফ্রিকায় নিয়ে যাওয়ার।

বিশ্বকাপের নকআউটে চারটি ম্যাচ জেতার অনন্য রেকর্ড গড়া আফ্রিকার একমাত্র দল মরক্কো। কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে গিয়ে থেমে যাওয়া এই দেশ এবার উত্তর আমেরিকা গিয়েছে আগের চেয়ে বেশি ক্ষুধা আর আরও বড় স্বপ্ন বুকে নিয়ে। 

মরক্কোর এই অভাবনীয় সাফল্য কিন্তু রাতারাতি আসেনি, এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময়ের দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ। মানসম্মত অ্যাকাডেমি আর আধুনিক সুযোগ-সুবিধা তাদের বিশ্বমঞ্চে বুক ফুলিয়ে লড়াই করার এক অন্যরকম আত্মবিশ্বাস এনে দিয়েছে।

কোয়ার্টার ফাইনালের ময়দানে গত দুই বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট ফ্রান্সের মোকাবিলা করবে মরক্কো। গত বিশ্বকাপে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোদের শেষ আটে প্রস্থানের পথ দেখানো আফ্রিকান জায়ান্টরা এবার বাধা হয়ে আসতে চায় কিলিয়ান এমবাপ্পেদের সামনে। 

সকল পজিশনে ভালো খেলতে থাকা মরক্কোকে এখন আর ছোট দল বলা যায় না কোনোভাবেই। বরং, তাদের যোগ্যতা আছে যেকোনো শিরোপাজয়ীদেরকেই মাঠে টক্কর দেওয়ার। তাই তো, এই আফ্রিকান দেশটি স্বপ্ন দেখতে পারছে বিশ্বকাপ জেতার। এই স্বপ্নকে মরক্কো বাস্তবে রূপ দিতে পারবে কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়।  

 

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link