নাজমুল শান্ত, তিন নম্বর বিপদ সংকেত!

যুক্তরাষ্ট্র্যের সাথে সিরিজের প্রথম ম্যাচ, সম্ভবত ক্যারিয়ারের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেও ধুকেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত।

ডাউন দ্য ট্র্যাকে এসে বড় শট খেলতে চাইলেন। ব্যাটে বলে ঠিকঠাক সংযোগ ঘটল না। ৩ রান করেই প্যাভিলিয়নে ফিরলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। অবশ্য সেই বড় শট খেলবার চাপ তিনি নিজেই বাড়িয়েছিলেন। আউট হওয়া বল সহ ১১টি বল খেলেছেন। এই সময়ে মারতে পারেননি কোন বাউন্ডারি। এই দশা অবশ্য নতুন নয়।

শেষ পাঁচ ইনিংসে নাজমুল হোসেন শান্তর রান যথাক্রমে ৩,৩৬, ২, ৬, ও ১৬। এই পাঁচ ইনিংসে শান্ত বল খরচ করেছেন যথাক্রমে ১১, ২৮, ৭, ৪ ও ১৫। শেষ পাঁচ ম্যাচের চারটির প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে। দলটি আফ্রিকা অঞ্চল থেকে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে পারেনি।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র্যের সাথে সিরিজের প্রথম ম্যাচ, সম্ভবত ক্যারিয়ারের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেও ধুকেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। সেটাই বরং সবচেয়ে বড় চিন্তার কারণ। গেল বছর তিন ফরম্যাটেই ব্যাট হাতে দূর্দান্ত খেলেছিলেন শান্ত। তারই ধারাবাহিকতায় তিন ফরম্যাটের অধিনায়কও বনে গেলেন তিনি। কিন্তু এরপরই যেন কেমন একটা খোলস বন্দী হতে শুরু করেছেন বা-হাতি এই ব্যাটার।

বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে তিনি যেন ব্যাট হাতে বড্ড বেশি দৃষ্টিকটু। সেটা অবশ্য তার ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই। আধুনিক টি-টোয়েন্টির যুগে এসেও রীতিমত ওয়ানডে ঘরনার ব্যাটিং উপহার দিয়ে যান তিনি প্রতিনিয়ত। ১১১ স্ট্রাইকরেট নিয়ে তিনি দখল করে আছেন বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডারের তিন নম্বর পজিশন।

সে স্থান যে প্রচণ্ড গুরুত্বপূর্ণ সেটা নিশ্চয়ই নতুন করে বলে দিতে হয় না। ক্রিকেটের ক্ষুদ্রতম সংস্করণে তিন নম্বর পজিশনে সর্বাধিক ম্যাচ খেলেছেন শান্ত। ১১১ স্ট্রাইকরেট বলবৎ থেকেছে। এমনকি ওপেনিং পজিশনেও খেলেছেন শান্ত একটা সময়, তখনও এই শামুক গতির রান তোলা থেকে বেড়িয়ে আসতে পারেননি।

ওপেনিংয়ে ১১ ম্যাচ খেলা শান্তর স্ট্রাইকরেট ছিল মাত্র ৯৫ এর একটু বেশি। এমন স্লথ গতির একজন ব্যাটার বাংলাদেশের টপ অর্ডারের গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছেন। ওপেনিংয়ের দুর্দশার দিনেও তিনি ব্যর্থ হচ্ছেন। স্লথ গতিতেও নিজের ইনিংস বড় করতে পারছেন না। শেষ পাঁচ ইনিংসে তো ৩বার আউট হয়েছেন একক সংখ্যার রান করে।

এমন একজন ব্যাটারকে নাম্বার তিন পজিশনে খেলানো বাংলাদেশের জন্যে বিশাল বিপদ ডেকে আনছে বারংবার। স্রেফ অধিনায়ক বলেই যেন তিনি টিকে আছেন একাদশে। যদিও যোগ্য বিকল্প যে নেই বাংলাদেশে। ঠিক সে কারণেই অফফর্মের তুঙ্গে থাকা লিটন কুমার দাস ও শান্তদের নিয়েই একাদশ সাঁজাতে হয়। চোট আক্রান্ত সৌম্য সরকারের জন্যে অপেক্ষা করতে হয়। এমন নড়বড়ে টপ অর্ডার নিয়ে বিশ্বকাপের বাংলাদেশের ভরাডুবি  অবশ্যম্ভাবী।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

আরও পড়ুন
মন্তব্যসমূহ
Loading...