সাব্বির এলেন, ম্যাচ জেতালেন আপন ঢঙে

নির্ভীক সাব্বির কোন কিছুই তোয়াক্কা করলেন না। দলের বাকিদের নির্বিষ ব্যাটিংয়ে চাপ বেড়েছিল ঢাকা ক্যাপিটালসের উপর। কিন্তু সাব্বির এক লহমায় সব উড়িয়ে দিলেন বাউন্ডারির হুঙ্কারে।

এসেই স্লগ সুইপে ছক্কা। সাব্বির রহমান বাইশ গজে এসেই দিলেন স্টেটমেন্ট। সন্দীপ লামিচানের মত মানসম্মত লেগ স্পিনারকে ছক্কা হাঁকানো চাট্টিখানি কথা নয়। নির্ভীক সাব্বির কোন কিছুই তোয়াক্কা করলেন না। দলের বাকিদের নির্বিষ ব্যাটিংয়ে চাপ বেড়েছিল ঢাকা ক্যাপিটালসের উপর। কিন্তু সাব্বির এক লহমায় সব উড়িয়ে দিলেন বাউন্ডারির হুঙ্কারে।

এদিন ঢাকা ক্যাপিটালসের সাত নম্বর ব্যাটার হিসেবে ব্যাটিং প্রান্তে এসেছিলেন সাব্বির রহমান। ১৩৩ রানের লক্ষ্যমাত্রার একটা সরল ম্যাচ। সেটাকেই কঠিন বানিয়ে ফেলেছিলেন দলের বাকি ব্যাটাররা। সাব্বিরের আগে, ব্যাটিংয়ে পাঠানো হয় নাসির হোসেনকে। সেই সময়ে ৬৫ বলে ৬৯ রান প্রয়োজন ছিল ঢাকার জয়ের জন্য।

সেই স্বল্প ব্যবধান ক্রমশ বড় হয়েছে। সাব্বির যখন মাঠে নামলেন তখন রান প্রয়োজন ২৪ বলে ৩৫ রান। দলের পাঁচ ব্যাটার ততক্ষণে সাজঘরে। আগের ম্যাচে দারুণ জয় পাওয়া রাজশাহী ওয়ারিয়ার্সের বোলাররা জয়ের পথটা সুগম প্রায় করেই ফেলেছিলেন। কিন্তু সাব্বির এক ছক্কায় পুর ম্যাচের গতিপথ বদলে দিলেন।

স্বল্প স্থায়িত্বের ইনিংস। তবে ভীষণ কার্যকর এক ইনিংস এলো সাব্বিরের ব্যাট থেকে। ২১০ স্ট্রাইকরেটের ইনিংসে, ১০ বলে সাব্বির আদায় করলেন সাব্বির রহমান। দুই ছক্কা এক চারে, সহজ ম্যাচটাকে সহজ ভঙ্গিমায় জিতলেন তিনি। বিনুরা ফার্নান্দোর একটা ইয়োর্কার প্রচেষ্টাকে ফুলটসে পরিণত করে লং অফ দিয়ে ছক্কা হাঁকান সাব্বির।

তাতেই আর কোন উইকেট না হারিয়ে, সাত বল বাকি থাকতে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ঢাকা ক্যাপিটালসের রণতরী। অথচ তিনি এলেন সাত নম্বর ব্যাটার হিসেবে। তিনি আরও আগেই নামতে পারতেন ব্যাটিং প্রান্তে। যতটা চাপ ঘনিভূত হয়েছিল ঢাকার ডেরায়, তার সিকিভাগও হয়ত দুশ্চিন্তা করতে হতো না ঢাকা ক্যাপিটালসকে। টিম ম্যানেজমেন্টকে তাই সাব্বিরের ব্যাটিং পজিশন নিয়ে আরও একটু গভীরভাবে ভাবতে হবে।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link