বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে যখন বিশ্বজয়ের স্বপ্ন বুনছে স্পেন, ঠিক তখনই হানা দিয়েছে চোটের আতঙ্ক। কোচ লুই দে লা ফুয়েন্তের কপালে এখন দুশ্চিন্তার গভীর ভাঁজ লা রোজাদের প্রধান দুই তুরুপের তাস লামিন ইয়ামাল আর পেদ্রো পোরোকে নিয়ে।
বৃহস্পতিবারের অনুশীলনে সতীর্থদের সঙ্গে অংশ নেননি তারা। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে হাড়ভাঙা খাটুনির পর টটেনহ্যাম ফুলব্যাক পোরো লড়ছেন পেশির ক্লান্তিতে। আর টুর্নামেন্টে প্রতি ম্যাচ শুরুর একাদশে থাকা ইয়ামাল বাঁ পায়ের উরুতে অস্বস্তিতে ভুগছেন।
ফুয়েন্তে অবশ্য আশার বাণী শুনিয়েছেন। তিনি বলছেন, বাড়তি সতর্কতার কারণেই তাদের আলাদা রাখা হয়েছে এবং তারা ফাইনালে খেলার জন্য ফিট। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, হাই-ভোল্টেজ ফাইনালে কি শতভাগ ফিটনেস ছাড়া আর্জেন্টিনা বধ সম্ভব? বিশেষ করে যখন প্রতিপক্ষ দলে আছেন লিওনেল মেসির মতো তারকা। ৩৯ বছর বয়সেও যিনি আট গোল নিয়ে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার ওপরে।

এবারের আসরে স্প্যানিশ ফুটবল মানেই যেন শিল্পের ছোঁয়া আর মাঝমাঠের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ। রদ্রি আর ফাবিয়ান রুইসের জাদুকরী পাসিং ফুটবল যেন এক অজেয় দুর্গ। রক্ষণে পোরো ও কুকুরেয়া আর আক্রমণে ইয়ামাল-ওয়ারসাবাল যেন মধ্যমণি।
কিন্তু আর্জেন্টিনাও পিছিয়ে নেই। ডি পল, হুলিয়ান আলভারেজ, লাউতারো মার্টিনেজরা প্রতিপক্ষকে নাস্তানাবুদ করতে জানে পেশিশক্তি আর দুর্দান্ত গতির উন্মাদনায়। শেষ মুহূর্তে মরণকামড় দিতে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যদের জুড়ি মেলা ভার। কেপ ভার্দে থেকে ইংল্যান্ড—সবাই সাক্ষী হয়েছে তাদের প্রত্যাবর্তনের রূপকথার।
ফাইনালে তাই একদিকে দেখা মিলবে স্প্যানিশ ট্যাকটিক্যাল শ্রেষ্ঠত্বের, আরেক দিকে থাকবে আলবিসেলেস্তেদের অদম্য জেদ। রবিবারে নিউ জার্সিতে কি ইয়ামাল-পোরোরা পারবেন স্পেনকে দ্বিতীয়বার বিশ্বজয়ের মুকুট এনে দিতে? নাকি মেসির হাতেই উঠবে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ? শিগগিরই মিলবে উত্তর!











