ট্রান্সফার মার্কেটে গিয়ে আপনি যদি মিকেল মেরিনোর প্লেয়িং পজিশন দেখেন, তবে একটু ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যেতে পারেন। তিনি মূলত দুটো জিনিস পারেন। প্রথমটা সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার হিসেবে খেলা, দ্বিতীয়টা সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড। এর বাইরে তাঁর পরিচয় নেই। আর তিনি যে সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলতে পারেন সেটার প্রমাণ তো টানা দুই ম্যাচেই দিয়েছেন। পর্তুগাল আর বেলজিয়াম, দুই ম্যাচেই বদলি হিসেবে নেমে শেষ মুহূর্তে ফলাফল নির্ধারণী গোল করে বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি কোন দিকেই কম যান না।
পর্তুগালের বিপক্ষে ফিরে গেলে সেখানে শেষ দিকে বদলি নেমে স্পেনকে জিতিয়েছিলেন মিকেল মেরিনো। বেলজিয়ামের বিপক্ষেও একই গল্প। ম্যাচের ৮৬ মিনিটে মাঠে নামার মাত্র দুই মিনিট পরই গোল করে বসেন এই স্প্যানিশ তারকা। পাউ কুবারসির শট বেলজিয়ামের গোলরক্ষক সেনে লামেন্স তালুবন্দি করতে ব্যর্থ হলে ফিরতি বলে কোনো ভুল করেননি মেরিনো। নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জড়িয়ে দেন জালে, আর তাতেই স্পেন পেয়ে যায় কাঙ্ক্ষিত জয়।

অনেকেই আছেন, যাদের পুরো ম্যাচে হয়তো খুব একটা চোখে পড়ে না। কিন্তু নির্দিষ্ট মুহূর্তে তারা হয়ে ওঠেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ। মিকেল মেরিনো ঠিক সেই ধরনেরই। পুরো ৯০ মিনিট খেলার প্রয়োজন হয় না তাঁর। কখন মাঠে নামবেন, কত মিনিট খেলবেন, এসবের চেয়ে বড় হয়ে দাঁড়ায় তিনি কী রেখে যাচ্ছেন। আর শেষ দুই ম্যাচে তিনি রেখে গেছেন একটাই জিনিস, সেটা জয়ের হাসি।
স্পেন বিশ্বকাপে এসেছে জাত স্ট্রাইকার ছাড়াই। তবে এটা যে খুব বেশি প্রভাব ফেলছে, তা কিন্তু নয়। কারণ তাদের হাতে মেরিনোর মতো ম্যাজিক মোমেন্ট তৈরি করা কিছু তারকা আছেন। মেরিনো যেমন মাঝমাঠের দখল নিতে পারেন, তেমনই বক্সের ভেতরেও পারেন জয়সূচক গোল করতে।











