এই ব্রহ্মাণ্ডের কতটুকু চিনি আমরা? সবটা চেনা সম্ভবও না। তবে এমন একটা দেশ আছে যা আয়তনে প্রায় আমাদের রাজধানী ঢাকার সমান, আর জনসংখ্যা তো বাংলাদেশের যেকোনো ছোট জেলার চেয়েও অনেক কম! অথচ ফুটবলে এক নতুন রূপকথা লিখে সেই ‘কুরাসাও’ এবার জায়গা করে নিয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপে।
ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের এই ছোট্ট দেশ কুরাসাও মূলত নেদারল্যান্ডসের অধীনস্থ এক স্বাধীন রাষ্ট্র। আনুষ্ঠানিকভাবে ফুটবল খেলার বয়স তাদের দেড় যুগও হয়নি ঠিক করে। অথচ এই অল্প সময়েই দেশটি ফুটবলপ্রেমীদের তাক লাগিয়ে দিয়েছে ক্যারিবিয়ান উচ্ছ্বাস আর ডাচ ‘টোটাল ফুটবল’-এর এক অদ্ভুত ও নান্দনিক মেলবন্ধনে।
কিন্তু কীভাবে সম্ভব হলো এই অবিশ্বাস্য রূপকথা? মূলত কুরাসাওয়ের নাগরিকদের আছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাসপোর্ট। আর এই পাসপোর্টের জোরেই ইউরোপের শীর্ষ লিগ মাতানো একঝাঁক ফুটবলার, নিজেদের শেকড়ের টানে কুরাসাওয়ের জার্সি গায়ে জড়াতে শুরু করেন। এই ফুটবলারদের ঘরে ফেরাই পাল্টে দিয়েছে দলটির ভাগ্য।

বাছাইপর্বের কঠিন পরীক্ষায় কুরাসাও হয়ে উঠেছিল এক অপরাজেয় শক্তি। একটি ম্যাচেও হারের মুখ দেখেনি এই লড়াকু দলটি। কুরাসাও এবার প্রথমবারের মতো গ্রেটেস্ট শো অন দ্য আর্থের মঞ্চে পা রাখছে বুক ভরা আত্মবিশ্বাস নিয়ে।
অবশ্য বিশ্বমঞ্চের শুরুতেই কুরাসাওকে পড়তে হচ্ছে এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষায়। জার্মানি, আইভেরি কোস্ট আর ইকুয়েডরের মতো পরাশক্তিদের সাথে এক ‘ডেথ গ্রুপে’ জায়গা হয়েছে তাদের। দর্শকদের ক্যারিবিয় রোমাঞ্চ আর নিজেদের ফুটবলের সৌন্দর্য দেখাতে তাঁরা মাঠে নামবে কোনো কিছু হারানোর ভয় না করে।
যে দ্বীপ ছিল সকলের কাছে অচেনা, আজ তারাই খেলছে ফুটবল বিশ্বকাপের ময়দানে। ফুটবল আর শুধু কেবলই একটি খেলা নয়, বরং এই খেলা রূপকথা লেখার এক জাদুকরী ক্যানভাস, কুরাসাও যেন তারই এক জীবন্ত উদাহরণ।











