যেমন হওয়া উচিত বাংলাদেশের একাদশ!

সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে পারবে তো বাংলাদেশ? প্রশ্ন আসতে পারে শুরুতেই কেন এটা বললাম, আর কেনই বা সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে হবে! মূলত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের সম্ভাব্য একাদশটাই আলোচনার বিষয়। অবশ্য সম্ভাব্য একাদশ না বলে 'হওয়া উচিত একাদশ' বলাটাও যায়।

সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে পারবে তো বাংলাদেশ? প্রশ্ন আসতে পারে শুরুতেই কেন এটা বললাম, আর কেনই বা সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে হবে! মূলত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের সম্ভাব্য একাদশটাই আলোচনার বিষয়। অবশ্য সম্ভাব্য একাদশ না বলে ‘হওয়া উচিত একাদশ’ বলাটাও যায়। সেখানে বাংলাদেশের ম্যানেজমেন্টকে একপ্রকার বাজি ধরতে হবে।

সাহস দেখানোর ব্যাপারটা ওপেনিংয়েই চলে আসে। তানজিদ হাসান তামিমকে একপ্রান্ত দিলে অপরপ্রান্তে কে? গতানুগতিক সিদ্ধান্ত নিলে সাদমান ইসলাম এই জায়গার দাবিদার। তবে বাংলাদেশ যদি সাহসী হয় সেখানে সৌম্য সরকারকে জায়গা ছেড়ে দিতে হবে।

প্রশ্ন আসতে পারে কেন সৌম্য সরকার, সাদমান নিয়মিত এই দলের ওপেনিং দায়িত্ব সামলাচ্ছেন, হুট করে সৌম্য ডেকে নামিয়ে দেওয়ার দরকার আছে কি?
অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে ওপেনারদের বেগ পেতে হয়। ডিফেন্সিভ ক্রিকেট খেলে টিকে থাকাও বেশিক্ষণ সম্ভব না। সেক্ষেত্রে স্কোরবোর্ডে রান যেমন আসবে তা তেমনই উইকেটও বাঁচিয়ে রাখা যাবে না। ঠিক এই জায়গায় সৌম্য আলাদা হতে পারেন। তিনি আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে পারেন, যেটা সাদমান ডেলিভার করতে পারবেন না। শুধু তাই নয়, শর্ট বল সামলাতেও সৌম্য দারুণ কার্যকর।

এ ধরনের কন্ডিশনে সৌম্য যে দুর্দান্ত অপশন সেটা নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে পরিসংখ্যান দেখলেই বোঝা যাবে। সেখানে তিন ম্যাচ খেলে সৌম্য রান করেছিলেন ৩২০, গড় ৫৩। একটা সেঞ্চুরিও আছে সৌম্য। সেই হিসাব টানলে অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে সৌম্য বাজির ঘোড়া হতেই পারেন। বোলিং অপশন সেই সঙ্গে বাড়বে বাংলাদেশের।

তিন থেকে সাত পর্যন্ত একই ধারায় চলবে। সেখানে নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস এবং মেহেদী হাসান মিরাজ দায়িত্ব সামলাবেন। বাংলাদেশ দলের সাফল্যে সবটাই নির্ভর করবে এই এঁরা কেমন খেলছেন তার উপর। অভিজ্ঞতার বিচারে গুরুদায়িত্ব থাকবে মুশফিকের কাঁধে তবে। যদি ওপেনাররা ব্যর্থ হন মুমিনুল এবং শান্তকে নতুন বলের ঝক্কিও সামলাতে হতে পারে। তবে তুরুপের তাস অবশ্যই লিটন। ম্যাচের গতিবিধি বুঝে ব্যাটিংয়ের মেজাজ ঠিক করাতে তাঁর জুড়ি নেই। লিটনের আক্রমণাত্মক কৌশল অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলকেও ভড়কে দিতে পারে।

এবার আসা যাক বোলিং আক্রমণে। তিন পেসার থিওরিতেই যেতে হবে বাংলাদেশকে। অন্তত অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে এর বিকল্পও নেই। সেক্ষেত্রে মিরাজ এবং তাইজুল ইসলামের স্পিনের উপরই ভরসা রাখবে বাংলাদেশ। মারারা স্টেডিয়ামে সময় গড়ালে এই স্পিন জুটিই হয়ে উঠতে পারে অন্ধকারে বাংলাদেশের এক চিলতে আলো।

তবে পেস আক্রমণে কাদের উপর ভরসা রাখবে বাংলাদেশ? এই দায়িত্বের অগ্রণী সেনানী তাসকিন আহমেদ। সঙ্গী হিসেবে হাসান মাহমুদের জায়গাও ফিক্সড বলা যায়। তবে তিন নম্বর পেসার কে?

 

অভিজ্ঞতার বিচারে এবাদতকে দেখতে চাইবেন অনেকে। তবে এখানেই আসল সাহসটা দেখাতে হবে ম্যানেজমেন্টকে। এবাদত নয়, অনভিজ্ঞ মুসফিক হাসান হতে পারেন এই কন্ডিশনের ট্রাম্প কার্ড। নাহিদ রানার মতো স্পিড তার নেই, তবে এবাদতের থেকে সেটা বেশি। শুধু তাই নয়, প্রতিপক্ষ এবাদতকে নিয়েই পড়াশোনা করবে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আনকোরা মুসফিক হতে পারেন সারপ্রাইজিং প্যাকেজ। তার উপর এবাদতের গতি, ফর্ম কোনো কিছুই অনুকূলে নেই। এই বাজিটা তাই ধরা উচিত বাংলাদেশের।

সব মিলিয়ে একাদশ হওয়া উচিতঃ তানজিদ তামিম, সৌম্য সরকার, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, লিটন দাস, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ এবং মুসফিক হাসান।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

Share via
Copy link