ভিনির উদযাপনে এক টুকরো পেলে!

হাইতির বিপক্ষে গোল করার পরপরই ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে ঘিরে সতীর্থদের সেই বাঁধনহারা উল্লাস! যেন মাঠের সবুজ ঘাস থেকে সরাসরি টেনে আনল পেলের সেই সোনালী অতীতে।

হাইতির বিপক্ষে গোল করার পরপরই ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে ঘিরে সতীর্থদের সেই বাঁধনহারা উল্লাস! যেন মাঠের সবুজ ঘাস থেকে সরাসরি টেনে আনল পেলের সেই সোনালী অতীতে।

গোলটি ছিল সাধারণ, কিন্তু উদযাপনের ভঙ্গিটি ছিল এক অসামান্য শিল্পকর্ম। ভিনিসিয়াসকে শূন্যে তুলে নেওয়ার সেই দৃশ্য মুহূর্তেই স্টেডিয়ামের গ্যালারি আর কোটি ভক্তের মনে তৈরি করল এক অদ্ভুত শিহরণ।

যেন পেলে বেঁচে উঠলেন ভিনিসিয়াসের শরীরে। পেলেকে কাঁধে তুলে সতীর্থদের সেই ঐতিহাসিক উদযাপন। সেই পরিচিত ভঙ্গিমা, সেই আদি আবেগ, আর ফুটবলের প্রতি সেই চিরন্তন ভালোবাসা। ১৯৭০ সালের নিজের শেষ বিশ্বকাপ জিতে পেলে উঠেছিলেন সতীর্থদের কাঁধে। এবার উঠলেন ভিনিসিয়াস।

ক্লাব ফুটবলে যার পায়ের জাদুতে মুগ্ধ পুরো বিশ্ব, জাতীয় দলের জার্সিতে সেই ভিনিসিয়াসকে ঘিরে একসময় বড় বড় প্রশ্নচিহ্ন ঝুলে থাকত। মাদ্রিদের সাফল্যের তুলনায় ব্রাজিলের হয়ে তাঁর পারফরম্যান্স ছিল যেন এক ধূসর অধ্যায়। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপ যেন ভিনিসিয়াসের নতুন এক জন্মের সাক্ষী।

বিশ্বকাপের আগে প্রীতি ম্যাচ থেকে শুরু করে মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ কিংবা হাইতির বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াই! সবখানেই ফুটবল বিশ্ব মুগ্ধ হয়েছে তাঁর পায়ের জাদুতে।

রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ডের পায়ের কারিকুরি আর দলের প্রতি তাঁর এই নিবেদন বুঝিয়ে দিচ্ছে, তিনি এসেছিলেন ব্রাজিলের ফুটবল ঐতিহ্যের ভার বহনের জন্যেই।

দলের খেলোয়াড়দের মাঝে যে ঐক্য আজ দেখা গেল, তাতে যেন স্পষ্ট – ব্রাজিল কেবল জেতার জন্যই খেলছে না, তারা খেলছে সেলেসাও ফুটবলের সেই পুরোনো আভিজাত্য ফেরানোর জন্য।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link