ব্যর্থ হলেন মহারাজা!

বিরাট কোহলি ফিরে যাচ্ছিলেন, গুটি গুটি পায়ে মাথা নিচু করে হাঁটছিলেন ড্রেসিংরুমের পথে। তখন বিশ্বাসের থেকে ব্যর্থতার দায় বোধহয় বেশি। রাজা পারলেন না রাজ্যটাকে অক্ষুণ্ণ রাখতে। পারলেন না ইংল্যান্ড দুর্গে লিখে দিতে, 'এই শাসনভার বুঝে নিলাম আমি।'

মহারাজা বিরাট কোহলির সব হলো, শুধু শেষটায় লেখা হলো না আরেকটা মহাকাব্য। হলো না ইংল্যান্ডের মাটিতে দাঁড়িয়ে শেষবারের মতো অসম্ভবকে সম্ভব করা। পরাজিত নায়কের সিলটা লেগে গেল গায়ে, চেজ মাস্টার যে ব্যর্থ হলেন, মাথানিচু ফিরে গেলেন। তবে বিদায় দেওয়ার আগে লর্ডসের সবুজ ঘাসে মাথা নুইয়ে কুর্নিশ জানাল পরাজিত সেই মহারাজাকে।

৩৮৮ রানের লক্ষ্য। সংখ্যায় এত বড়, এত বিশাল যা ছুঁয়ে দেখার জন্য বুকে সাহস লাগে। হিমালয় ডিঙানোর মতো অসাধ্য সাধন করা কি আর চাট্টিখানি কথা। তবে স্বপ্ন তো ঠিকই উঁকি দিয়েছিল রোহিত শর্মার ব্যাটে, শুভমান গিলও অগ্রজের ফেলে আসা পদচিহ্ন অনুসরণ করেছেন। তাঁর বিদায়ে মাঠে এলেন ক্রিকেটের অবিসংবাদিত মহানায়ক।

জিততে হলে তখনও দরকার ২৪৭ রান। হাতে তখন ২৫.৪ ওভার। বুড়ো রোহিতের সঙ্গে ছুটলেন বুড়ো বিরাট। দুজনের সেই বছর দশেক আগে ফিরে যাওয়া যেন। কত কিছুই তো করেছেন দুজনে, কত পথই তো ফেলে এসেছেন। পড়ন্ত বেলায় আরও একবার কি ফিরে যাবেন তাঁরা সেখানে, সময়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আবারও কি একটা জিতে যাওয়া গান লিখবেন তাঁরা?

৮৬ বলে ১১৩ রানের জুটি সেই সম্ভাবনার আগুনে বাতাস দিচ্ছিল। সেটা নিভে যায় ১৩৮ রান করা রোহিতের বিদায়ে। তবে তখনও ঠাঁয় দাঁড়িয়ে কোহলি, বিশ্বাসের ভার তাঁর কাঁধে। সেই দায় যেন মিটিয়ে যাচ্ছিলেন। ফিফটি আসে আরও একবার। তবে থামতে হয় ৬০ বলে ৭৪ রানের ইনিংস খেলে। নিমিষেই সব স্বপ্ন শেষ, সব আশা, সব ভরসা, সব শেষ।

বিরাট কোহলি ফিরে যাচ্ছিলেন, গুটি গুটি পায়ে মাথা নিচু করে হাঁটছিলেন ড্রেসিংরুমের পথে। তখন বিশ্বাসের থেকে ব্যর্থতার দায় বোধহয় বেশি। রাজা পারলেন না রাজ্যটাকে অক্ষুণ্ণ রাখতে। পারলেন না ইংল্যান্ড দুর্গে লিখে দিতে, ‘এই শাসনভার বুঝে নিলাম আমি।’

শেষমেষ ২৭ রানে হারতে হয়েছে ভারতকে। থামতে হয়েছে ৩৬০ রানে। আর একটু হলেই হয়ে যেত। হয়নি সেটা। বিরাট হয়তো রাজদণ্ড হাতে আর ইংল্যান্ডের মাটিতে পা রাখবেন না, শেষবেলায় না হয় আক্ষেপটা থাকল। সব পেলে যে নষ্ট জীবন।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

Share via
Copy link