একটা প্রশ্ন বছরের পর বছর ঘুরেছে বাংলাদেশ ক্রিকেটের অলিন্দে, রিশাদ হোসেন কি টেস্টের যোগ্য? আরেকটা প্রশ্ন আরও পুরোনো, পেস বোলিং অলরাউন্ডারের যে শূন্যতা, তা কি ভরাট করতে পারবেন মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন? উত্তর খোঁজার সুযোগটা এসেছে এমন এক পথ ধরে, যা কেউ পরিকল্পনা করেনি। ভিসা অফিসের একটা সিলমোহর, আর তাতেই বদলে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের বাংলাদেশ ‘এ’ দলের চেহারা।
মাঠের বাইরের এই সংকট সবচেয়ে স্পষ্ট ফুটে উঠেছে নির্বাচক নাদিফ চৌধুরির কণ্ঠে, যেখানে হতাশা লুকানোর চেষ্টাও নেই।তিনি বলেন “ভিসা ইস্যু একটা বড় সমস্যা হয়েছিল। আমরা মেলাতে পারছিলাম না। চোট মিলিয়ে একটা বাজে অবস্থায় পড়ে গিয়েছি,” আরো যোগ করেছেন, “এখন বাধ্য হয়ে সাদা বলে যারা খেলে, ওদেরকেই খেলাতে হবে। কোনো উপায় নেই।” জাতীয় দল, হাই পারফরম্যান্স দল অস্ট্রেলিয়ায়, ইমার্জিং আর ‘এ’ দল দক্ষিণ আফ্রিকায়, একসঙ্গে চারটি দলের ব্যস্ততা সামলাতে গিয়ে নির্বাচকদের হাতে যেন আর কোনো তাস অবশিষ্ট নেই।
মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন আর এনামুল হকের ভিসা নবায়ন না হওয়ায় দেশে ফিরতে হচ্ছে তাদের। চোট কেড়ে নিয়েছে শাহাদাত হোসেন, জাকির হাসান আর ইকবাল হোসেন ইমনকে। কালাম সিদ্দিকিও বাদ পড়েছেন প্রথম ম্যাচের দল থেকে। এই শূন্যস্থান পূরণেই ডাক পড়েছে রিশাদ আর সাইফের, যদিও দুজনের কেউই লাল বলের সঙ্গে সাম্প্রতিক পরিচয়ে সমৃদ্ধ নন।

সাইফুদ্দিন সবশেষ প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন সেই ২০২২ সালের ডিসেম্বরে, আর মিরপুরে যখন সাদা বলের অনুশীলনে ডুবে ছিলেন একদিনের সিরিজের প্রস্তুতিতে, তখনই খবর এলো, আগে তাকে নামতে হবে লাল বলে। রিশাদের সংযোগটা কিছুটা সতেজ, গত নভেম্বরে জাতীয় লিগেই শেষবার খেলেছেন তিনি।
ভিসা জটিলতা কাটিয়ে দলে ফিরেছেন জাকের আলি ও মুশফিক হাসানও, যাদের অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট স্কোয়াড থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল এই সফরের জন্যই। নেতৃত্বে থাকছেন সদ্য জিম্বাবুয়েতে টেস্ট অভিষিক্ত তাওহিদ হৃদয়, সঙ্গে ১১ টেস্ট খেলা নুরুল হাসান সোহান আর বহুবার দরজায় কড়া নেড়েও এখনো অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা রেজাউর রহমান রাজা।
স্কোয়াডে ঠাঁই পাওয়া মানেই একাদশে জায়গা নিশ্চিত নয়, তবু প্রশ্নটা থেকেই যায়, বাধ্য হয়ে খুলে যাওয়া এই দরজা দিয়েই কি রিশাদ-সাইফ ঢুকে পড়বেন টেস্ট ক্রিকেটের সেই জগতে, যেখানে ঢোকার কথা ছিল অন্য কোনো পথে?











