শ্রীলঙ্কার নেই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির টিকিট। অথচ, যারা ওয়ানডে ফরম্যাটের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, সেই অস্ট্রেলিয়াই তাদের কাছে ধরাশায়ী! স্কোরবোর্ড বলছে ৪৯ রানের হার, কিন্তু মাঠের দৃশ্যপট আরও বিব্রতকর ছিল অজিদের জন্য। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়া যেন গিয়েছিল আত্মসমর্পণ করতে!
এটা ঠিক, অস্ট্রেলিয়া খেলছে এক ধরনের ‘বি’ দল নিয়ে। প্রথম সারির পেস আক্রমণ নেই, নেই প্যাট কামিন্স-মিচেল স্টার্কদের মতো ধ্রুপদী ফাস্ট বোলার। অলরাউন্ডার মার্কাস স্টয়নিসও অবসর নিয়ে নিয়েছেন। নিয়মিত অধিনায়ক প্যাট কামিন্সের জায়গায় নেতৃত্বে এখন স্টিভেন স্মিথ, যিনি ওয়ানডে ফরম্যাটে নিজেও অনিয়মিত হয়ে পড়েছেন। তবুও কি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এমন ব্যর্থতা মানায়?

প্রথম ইনিংসে শ্রীলঙ্কা করেছিল মাত্র ২১৪ রান। আধুনিক ওয়ানডেতে যা খুবই ছোট স্কোর। ৪০ ওভারেও এ রান অনায়াসেই তাড়া করা সম্ভব। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা এর কাছেও পৌঁছাতে পারেনি।
শ্রীলঙ্কার স্পিনের জাদু যেন সময়কে কয়েক বছর পেছনে নিয়ে গেল। প্রেমাদাসার মন্থর উইকেটে বল পড়ার পর থমকে যাচ্ছিল, টার্ন করছিল ভয়ানকভাবে। আর এতেই নাকাল হলো অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটিং লাইনআপ। একের পর এক উইকেট ঝরে গেল মাটিতে শুকনো পাতার মতো। ৫০ ওভারের ক্রিকেটে যেখানে ৩০০’র বেশি রান হরহামেশা দেখা যায়, সেখানে মাত্র ১৬৫ রানেই গুটিয়ে গেলো বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা! ভাবা যায়!

কলম্বোর বাতাসে একটাই প্রশ্ন— চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আগে কি তবে বড় শঙ্কার সঙ্কেত দিয়ে রাখল এই ম্যাচ? হোক না দ্বিতীয় সারির দল, এই ব্যর্থতা তো ক্রিকেটীয় সংস্কৃতিরই পরাজয়! বড় টুর্নামেন্টের আগে এমন পারফরম্যান্স কি তবে ওয়েক-আপ কল হয়ে থাকলো অজিদের জন্য?










