বড় দল বরাবরই বাংলাদেশকে একটু হেয় প্রতিপন্ন করে এসেছে। সে কারণও অবশ্য আছে। ক্রিকেট দৌড়েছে আর আমরা হেঁটেছি, ফলাফল তাল মিলিয়ে চলতে না পারার খেসারত নানা ভাবেই আমাদের দিতে হয়েছে। তাই তো অস্ট্রেলিয়ায় যেতে বাংলাদেশকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ২৩টা বছর। আর অপেক্ষা পর্ব শেষে বাংলাদেশ এটাও বুঝিয়ে দিয়েছে, খাটো করে দেখার দিন শেষ।
প্রাপ্তি নম্বর এক, এবং এটাই হয়তো সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশ স্বীকৃতি আদায় করেছে এই সিরিজে গিয়ে। বড় দলগুলোর সঙ্গে খেলার বিশেষ উপকারিতা, সারা বিশ্ব আপনার ওপর নজর রাখবে। এর মধ্যে যদি সাফল্য ধরা দেয়, তবে তো বাংলা প্রবাদ, আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে যাওয়ার মতোই অবস্থা হবে।
ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশ যেভাবে ডমিনেট করে জিতেছে, তাও প্রতাপশালী একটা দলের বিপক্ষে, সেগুলো নেহাত রসিকতা করে উড়িয়ে দেওয়ার কোনো উপায় অন্তত নেই। আর তাতেই বিশ্ব ক্রিকেট প্রশংসায় ভাসিয়েছে বাংলাদেশকে, ম্যাকয় টেস্টে নামার আগে এই দলটাকে সমীহ করেছে সকলে। এমনকি দ্বিতীয় টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হারলে নামজাদা সব বিশ্লেষকরা দাবি করছেন, বাংলাদেশ লড়াই করেই হেরেছে।

প্রাপ্তি নম্বর দুই, বাংলাদেশকে এখন বড় দলগুলো প্রতিনিয়ত ডাকবে। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশকে অনেকেই গোনায় ধরত না, এখন সেটা ধরবে। বড় দলের বিপক্ষে তাদের মাটিতে নিয়মিত না খেললে উন্নতি ও ধারাবাহিকতা তৈরি করা কঠিন। অর্থাৎ এই সিরিজ হয়তো ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে আরও বড় সুযোগ এনে দেওয়ার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রাপ্তি নম্বর তিন, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবার টেস্ট জয়ের স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ। দেশের ক্রিকেটে সোনালি অধ্যায় হিসেবে এটা স্মরণীয় হয়ে থাকবে চিরকাল। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ এটাও বুঝে গেছে, সঠিক পরিকল্পনা ও পারফরম্যান্স থাকলে পৃথিবীর যে প্রান্তই হোক, সেখানে ম্যাচ জেতা যাবে।
প্রাপ্তি নম্বর চার, বাংলাদেশের পেসারদের পারফরম্যান্স। হাসান মাহমুদ, শরিফুল ইসলামরা প্রমাণ করেছে, এই দলটার পেস আক্রমণ এক বিশ্বসেরা তালিকায় ঠাঁই পাবে অনায়াসে।
প্রাপ্তি নম্বর পাঁচ, ডারউইনের আগে হয়তো অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের জয়ের কথা অনেকের কাছেই অসম্ভব মনে হতো। কিন্তু সেই অসম্ভবকে সম্ভব করার পর ড্রেসিংরুমের মানসিকতাই বদলে যাওয়ার কথা। ভবিষ্যতে ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা নিউজিল্যান্ডের কঠিন সফরেও এই জয় উদাহরণ হয়ে থাকবে। বাংলাদেশ মনে-প্রাণে বিশ্বাস করবে, আমরা পারি কিংবা পারবই।

প্রাপ্তি নম্বর ছয়, ম্যাকয়তে দ্বিতীয় টেস্ট বাংলাদেশের দুর্বলতাও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। ৬৪ ও ৯৫ রানে অলআউট হওয়া প্রমাণ করেছে, একটি ম্যাচ জেতা আর ধারাবাহিকভাবে কঠিন কন্ডিশনে ভালো খেলা এক জিনিস নয়। কিন্তু এই ব্যর্থতাটাও প্রাপ্তি, কারণ দল এখন জানে কি করতে হবে। শান্তও বলেছেন, এমন অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে দলকে সাহায্য করবে।
এছাড়াও ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স থেকে শুরু করে, অভিজ্ঞতা অর্জন পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রাপ্তি কম নয়। বিশ্বক্রিকেটে নতুনভাবে নিজেদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে শান্তরা নিজেদের জায়গাটা শক্ত করলেন এই সফরের মাধ্যমে। এবার চ্যালেঞ্জ এই সমীহ আদায় করাটাকে ধরে রাখা, টেনে নিয়ে যাওয়া দূর বহুদূর।
Share via:










