ক্রিকেটের কোচিং দুনিয়ায় হঠাৎ এত রদবদল কেন?

এক মাসের ব্যবধানে চারটি টেস্ট খেলুড়ে দেশ হারিয়েছে তাদের প্রধান বা গুরুত্বপূর্ণ কোচিং সদস্যকে। ভারত, ইংল্যান্ড, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান—একের পর এক জাতীয় দলে কোচিং সেটআপে বড় পরিবর্তন। প্রশ্ন উঠছে, হঠাৎ কেন এত রদবদল?

এক মাসের ব্যবধানে চারটি টেস্ট খেলুড়ে দেশ হারিয়েছে তাদের প্রধান বা গুরুত্বপূর্ণ কোচিং স্টাফকে। ভারত, ইংল্যান্ড, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান—একের পর এক জাতীয় দলে কোচিং সেটআপে বড় পরিবর্তন। প্রশ্ন উঠছে, হঠাৎ কেন এত রদবদল?

প্রথমেই ইংল্যান্ড। ‘বাজবল’ দর্শন দিয়ে শুরুটা দারুণ হলেও শেষটা সুখকর হয়নি। অ্যাশেজে ৪-১ ব্যবধানে হার, এরপর ঘরের মাঠেও নিউজিল্যান্ডের কাছে সিরিজ পরাজয়। টানা হতাশাজনক টেস্ট ফলের পর টেস্ট দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব ছেড়েছেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম, যদিও সাদা বলের দলের কোচ হিসেবে থাকছেন তিনি।

ভারতেও এসেছে পরিবর্তন। সহকারী কোচ রায়ান টেন ডেসকাটের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তা আর নবায়ন করেনি বিসিসিআই। জাতীয় দলের দায়িত্ব শেষ করেই তিনি ফিরে গেছেন কলকাতা নাইট রাইডার্সে, যেখানে তার জন্য অপেক্ষা করছে দীর্ঘমেয়াদি ও আকর্ষণীয় একটি ভূমিকা।

বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ শন টেইটও সরে দাঁড়িয়েছেন। আনুষ্ঠানিকভাবে পরিবারের সঙ্গে আরও সময় কাটানোর কথা বললেও, ফ্র্যাঞ্চাইজি ও ঘরোয়া ক্রিকেটের লাভজনক সুযোগও তার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই মুহূর্তে লাহোর কালান্দার্স দলে কাজ করছেন তিনি।

আফগানিস্তানের প্রধান কোচ জোনাথন ট্রট বিদায় নিয়েছেন ভিন্ন কারণে। আফগান ক্রিকেট বোর্ড চেয়েছিল তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের বদলে আফগানিস্তানেই স্থায়ীভাবে থেকে কাজ করুন। নতুন এই শর্তে রাজি না হওয়ায় চুক্তি শেষে দায়িত্ব ছেড়ে দেন তিনি। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন রিচার্ড পাইবাস। ট্রট দায়িত্ব নিয়েছেন আয়ারল্যান্ডের।

চারটি ঘটনার কারণ আলাদা হলেও বড় ছবিটা একই। আধুনিক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোচিং এখন বছরের ১২ মাসের চাকরি। অবিরাম সফর, ফলের চাপ, বোর্ডের প্রত্যাশা—সব মিলিয়ে কোচদের ওপর চাপ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। আর সবচেয়ে বড় বিষয়, মাঠে ব্যর্থ হন খেলোয়াড়রা, কিন্তু তার মূল্য অনেক সময় দিতে হয় কোচকেই। দল খারাপ খেললেই সবার আগে প্রশ্ন ওঠে ড্রেসিংরুমের নেতৃত্ব নিয়ে।

অন্যদিকে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট বদলে দিয়েছে পুরো সমীকরণ। আইপিএলসহ বিশ্বের বিভিন্ন টি-টোয়েন্টি লিগ এখন কোচদের দিচ্ছে মোটা পারিশ্রমিক, তুলনামূলক কম সময়ের কাজ এবং অনেক কম চাপ। ফলে জাতীয় দলের দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্বের চেয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটই এখন অনেক অভিজ্ঞ কোচের কাছে বেশি আকর্ষণীয়।

এক সময় জাতীয় দলের কোচের পদকে দীর্ঘমেয়াদি গন্তব্য হিসেবে দেখা হতো। এখন সেই ধারণা বদলে যাচ্ছে। পারফরম্যান্স, বোর্ডের প্রত্যাশা আর ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের হাতছানিতে কোচদের আসা-যাওয়াও এখন বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়মিত বাস্তবতা।

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link