আইপিএলের তারকা নন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও কখনও খেলেননি। তবু ৩৩ বছর বয়সে হঠাৎই ভারতের টেস্ট দলে জায়গা করে নিয়ে আলোচনায় সারানশ জেইন। তাহলে কে এই ক্রিকেটার, যার ওপর এবার শ্রীলঙ্কা সফরে ভরসা রাখছে ভারত?
মধ্যপ্রদেশের এই বাঁহাতি ব্যাটিং অলরাউন্ডার অফস্পিন বোলিং করেন। ২০১৪ সালে রঞ্জি ট্রফিতে অভিষেক হলেও দীর্ঘ সময় ছিলেন আড়ালে। প্রথম আট বছরে খেলেছেন মাত্র আটটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ। তবে হাল ছাড়েননি। ২০২২ সালে মধ্যপ্রদেশকে প্রথম রঞ্জি ট্রফি জেতাতে নকআউট পর্বে ১৩ উইকেট ও গুরুত্বপূর্ণ একটি ফিফটি করে প্রথমবার আলোচনায় আসেন। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি।
সবচেয়ে উজ্জ্বল মৌসুম কাটিয়েছেন সর্বশেষ রঞ্জি ট্রফিতে। ৫১৮ রান করেছেন ৫৭.৫৫ গড়ে, সঙ্গে নিয়েছেন ৩০ উইকেট। এর আগে দুলীপ ট্রফিতেও দুই ম্যাচে ১৬ উইকেট ও দুটি অর্ধশতক করে হন টুর্নামেন্টসেরা। চলতি মাসেই ভারত ‘এ’ দলের হয়ে শ্রীলঙ্কা সফরে দ্বিতীয় চার দিনের ম্যাচে অপরাজিত ৭০ রান ও ৬ উইকেট নিয়ে নির্বাচকদের নজর কাড়েন।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত ৫৪ ম্যাচে সারানশ জেইনের সংগ্রহ ২,২২৩ রান ও ১৮৮ উইকেট। লিস্ট ‘এ’ ও টি-টোয়েন্টিও খেলেছেন, তবে লাল বলের ক্রিকেটই তার সবচেয়ে বড় শক্তি। আদর্শ মানেন রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে। অশ্বিনের মতোই দীর্ঘ সংস্করণে নিজের ছাপ রাখতে চান তিনি।
তার এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে পরিবারের বড় ত্যাগ। বাবা সুবোধ জেইন, যিনি নিজেও সাবেক প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার, ছেলের অনুশীলনের জন্য বাড়ির ছাদেই বানিয়ে দেন ছোট্ট একটি নেট। কোচ চন্দ্রকান্ত পণ্ডিতও তার ক্যারিয়ারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পণ্ডিতের পরামর্শে রাউন্ড দ্য উইকেট থেকে বল করা শুরু করেন সারানশ, যা পরে তার বড় অস্ত্রে পরিণত হয়।
ওয়াশিংটন সুন্দরের চোট এবং শ্রীলঙ্কার দলে একাধিক বাঁহাতি ব্যাটার থাকায় অফস্পিনার হিসেবে সুযোগ পেয়েছেন সারানশ জেইন। গল টেস্টে একাদশে সুযোগ পেলে ১৯৯৮ সালে রবিন সিংয়ের পর ৩৩ বছর পেরিয়ে টেস্ট অভিষেক হওয়া ভারতের প্রথম ক্রিকেটার হবেন তিনি।












