৫৮ রানে অপরাজিত বাবর, কিন্তু দলের জন্য কতটা খেললেন?

ক্রিকেটে সব অপরাজিত ইনিংস সমান নয়। কিছু ইনিংস করতালি পায়, আর কিছু ইনিংস করতালির মাঝেও প্রশ্ন রেখে যায়। বাবর আজমের এই ৫৮ রানের ইনিংস কোন দলে পড়ে?

ক্রিকেটে সব অপরাজিত ইনিংস সমান নয়। কিছু ইনিংস করতালি পায়, আর কিছু ইনিংস করতালির মাঝেও প্রশ্ন রেখে যায়। বাবর আজমের এই ৫৮ রানের ইনিংস কোন দলে পড়ে?

তারুবা টেস্টে ২১১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান যখন ৭১ রানে ৯ উইকেট হারিয়েছে, তখন ম্যাচের ফল কার্যত নির্ধারিত। ক্রিজে ছিলেন শুধু অধিনায়ক বাবর আজম, আর অন্য প্রান্তে নাম্বার ইলেভেন মোহাম্মদ আব্বাস।

বল হাতে ৫ উইকেট নেওয়া আব্বাস ব্যাট হাতেও দারুণ লড়াই করেন। বাবরের সঙ্গে শেষ উইকেটে ৪৯ রান যোগ করেন, টিকে থাকেন ১২ ওভার। শেষ পর্যন্ত জেইডেন সিলসের এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়ে ২৩ রান করে ফেরেন তিনি। পাকিস্তান অলআউট হয় ১২০ রানে। বাবর ১০৭ বলে ৫৮ রানে অপরাজিত থাকেন। ফল—৯০ রানের হার, সিরিজে ০-১ এবং বিদেশের মাটিতে টানা অষ্টম টেস্ট পরাজয়।

স্কোরকার্ডে চোখ রাখলে বাবরের ইনিংস নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। কঠিন উইকেটে তিন নম্বরে নেমে ১০৭ বল খেলে অপরাজিত ৫৮ রান—এমন ইনিংস যেকোনো ব্যাটসম্যানের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। কিন্তু স্কোরকার্ডটা আরেকটু খুঁটিয়ে দেখলে অন্য একটা ছবি বেরিয়ে আসে।

বাবর যখন ৮১ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন, দলের স্কোর তখন ৮৮ রান ৯ উইকেট হারিয়ে — বাকিরা মিলে করেছিলেন মোটে ৩৮ রান। আর শেষ তিনটা জুটিতে বাবর বল খেলেছেন ৪৩টা, টেলএন্ডাররা মিলে ৪৫টা। অর্থাৎ স্ট্রাইকটা প্রায় সমান-সমান ভাগ হয়েছে।

প্রশ্নটা এখানেই। একজন সেট ব্যাটসম্যান, তার ওপর আবার দলের অধিনায়ক—এমন পরিস্থিতিতে তার ভূমিকা কী হওয়া উচিত? তিনি কি যতটা সম্ভব স্ট্রাইক নিজের কাছে রেখে টেলএন্ডারকে ঝুঁকির বাইরে রাখবেন? নাকি স্বাভাবিকভাবেই ব্যাটিং চালিয়ে যাবেন, যেখানে স্ট্রাইক পরিবর্তন হওয়াটা অনিবার্য?

ম্যাচ শেষে বাবর নিজেও স্বীকার করেছেন, পাকিস্তান ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে ভালো খেলতে পারেনি এবং বড় কোনো জুটি গড়তে পারেনি। কথাটা সত্যি। কিন্তু অধিনায়ক হিসেবে তার নিজের সিদ্ধান্তগুলোও কি সমানভাবে প্রশ্নের বাইরে?

এখানেই এই ইনিংসের ব্যাখ্যা দুই রকম হতে পারে।

একদিকে, ধসে পড়া ব্যাটিং লাইনে একাই শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়া একজন অধিনায়ক, যিনি কঠিন উইকেটে অপরাজিত থেকে দলের সম্মান কিছুটা হলেও রক্ষা করেছেন।

অন্যদিকে, এমনও প্রশ্ন উঠতে পারে—তিনি কি সত্যিই দলের জয়ের ক্ষীণ সম্ভাবনাটাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন? নাকি এই ইনিংসটা বেশি ছিল নিজের ফর্ম, আত্মবিশ্বাস এবং পরিসংখ্যানকে বাঁচিয়ে রাখার?

এর সরাসরি উত্তর হয়তো নেই। তবে টানা অষ্টম বিদেশ সফরে টেস্ট হারার পর প্রশ্নটা করাই যায়—একজন সেট ব্যাটসম্যান এবং অধিনায়ক হিসেবে বাবরের কি আরও বেশি স্ট্রাইক নেওয়ার চেষ্টা করা উচিত ছিল? টেলএন্ডারদের যতটা সম্ভব অন্য প্রান্তে রেখে, ঝুঁকি নিয়ে হলেও কি দলের জন্য আরও কয়েকটি রান আদায়ের চেষ্টা করা তার দায়িত্ব ছিল না?

পরিসংখ্যান বলবে, বাবর অপরাজিত ৫৮ রান করেছেন। কিন্তু ক্রিকেটের বড় প্রশ্নটা থেকে যায়—এই ৫৮ রান কি শুধুই সুন্দর একটি ইনিংস, নাকি এটি এমন একটি ইনিংস, যেখানে দল জেতার শেষ সম্ভাবনাটাও আরও আগ্রাসীভাবে খোঁজা যেত?

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link