বিতর্কের মুখে বিশ্বকাপের রেফারিরা!

আলজেরিয়ার এক খেলোয়াড়কে করা লিওনেল মেসির আঘাতটি নিয়ে চারদিকে তুমুল প্রশ্ন উঠলেও, মেসিকে কোনো কার্ডই দেখতে হয়নি।

নানাভাবেই পুরো পৃথিবীকে বিস্মিত করছে এবারের ফুটবল বিশ্বকাপ। ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা রেফারিদের সিদ্ধান্ত নিয়ে মনের মধ্যে খুঁতখুঁতে ভাবটা যেন সেই তালিকায় আরেক সংযোজন। যেখানে প্রতি ম্যাচে প্রতিটি দলই নিরপেক্ষতার আশা নিয়ে মাঠে নামে, সেখানে একেক ম্যাচে রেফারির একেক রকম রূপ ফুটবলপ্রেমীদের মনে কেবলই খারাপ লাগার জন্ম দিচ্ছে।

একই ধরণের ফাউল বা পরিস্থিতিতে ভিন্ন ভিন্ন ম্যাচে রেফারিদের দুরকম সিদ্ধান্ত নেওয়াটাই এখন বড় বিতর্কের কারণ। আর্জেন্টিনার গ্রুপপর্বের প্রথম ম্যাচের কথাই ধরে নেওয়া যাক। আলজেরিয়ার এক খেলোয়াড়কে করা লিওনেল মেসির আঘাতটি নিয়ে চারদিকে তুমুল প্রশ্ন উঠলেও, মেসিকে কোনো কার্ডই দেখতে হয়নি। অথচ, অনেকেই সেখানে লাল কার্ডের দাবি তুলেছিলেন। 

আর্জেন্টিনা ছাড় পেলেও মুক্তি মেলেনি ব্রাজিলের। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের একটি নান্দনিক গোল বাতিল করে দেন রেফারি। ভিনির যে কাজকে ফাউল বলা হয়েছে, অনেক ফুটবলবোদ্ধাই তা মানতে নারাজ। এই গোলটি বাতিল না হলে সেদিন ভিনির হ্যাটট্রিক পূর্ণ হতো। 

বিতর্কের এই কালো মেঘ এখানেই থেমে নেই। ইরানের সর্বশেষ ম্যাচের একটি অফসাইড নিয়েও ফুটবলপাড়ায় তীব্র ক্ষোভ আর প্রশ্ন উঠছে। রেফারিদের মূল কাজই যেখানে মাঠের বুকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থেকে ম্যাচ পরিচালনা করা, সেখানে এবারের বিশ্বকাপে তাদের এমন কিছু সিদ্ধান্ত মাঠের সৌন্দর্য নষ্ট করছে, যা অনেকের চোখেই স্পষ্ট পক্ষপাতমূলক বলে মনে হতে পারে।

 

রেফারিরাও মানুষ, ভুল করা সম্ভব তাদের পক্ষেও। কিন্তু, সেই ভুলগুলো কখনো কখনো ইচ্ছাপ্রসূত মনে হলেই প্রশ্ন জাগে দর্শকদের মনে। বিশ্বকাপে যেখানে সবাইকে সমানভাবে দেখা হবে ভেবে নেওয়া হয়, সেখানে কোনো এক দলের পক্ষে আসা সিদ্ধান্ত ক্ষুব্ধ করে অন্যদের। 

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link