নানাভাবেই পুরো পৃথিবীকে বিস্মিত করছে এবারের ফুটবল বিশ্বকাপ। ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা রেফারিদের সিদ্ধান্ত নিয়ে মনের মধ্যে খুঁতখুঁতে ভাবটা যেন সেই তালিকায় আরেক সংযোজন। যেখানে প্রতি ম্যাচে প্রতিটি দলই নিরপেক্ষতার আশা নিয়ে মাঠে নামে, সেখানে একেক ম্যাচে রেফারির একেক রকম রূপ ফুটবলপ্রেমীদের মনে কেবলই খারাপ লাগার জন্ম দিচ্ছে।
একই ধরণের ফাউল বা পরিস্থিতিতে ভিন্ন ভিন্ন ম্যাচে রেফারিদের দুরকম সিদ্ধান্ত নেওয়াটাই এখন বড় বিতর্কের কারণ। আর্জেন্টিনার গ্রুপপর্বের প্রথম ম্যাচের কথাই ধরে নেওয়া যাক। আলজেরিয়ার এক খেলোয়াড়কে করা লিওনেল মেসির আঘাতটি নিয়ে চারদিকে তুমুল প্রশ্ন উঠলেও, মেসিকে কোনো কার্ডই দেখতে হয়নি। অথচ, অনেকেই সেখানে লাল কার্ডের দাবি তুলেছিলেন।

আর্জেন্টিনা ছাড় পেলেও মুক্তি মেলেনি ব্রাজিলের। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের একটি নান্দনিক গোল বাতিল করে দেন রেফারি। ভিনির যে কাজকে ফাউল বলা হয়েছে, অনেক ফুটবলবোদ্ধাই তা মানতে নারাজ। এই গোলটি বাতিল না হলে সেদিন ভিনির হ্যাটট্রিক পূর্ণ হতো।
বিতর্কের এই কালো মেঘ এখানেই থেমে নেই। ইরানের সর্বশেষ ম্যাচের একটি অফসাইড নিয়েও ফুটবলপাড়ায় তীব্র ক্ষোভ আর প্রশ্ন উঠছে। রেফারিদের মূল কাজই যেখানে মাঠের বুকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থেকে ম্যাচ পরিচালনা করা, সেখানে এবারের বিশ্বকাপে তাদের এমন কিছু সিদ্ধান্ত মাঠের সৌন্দর্য নষ্ট করছে, যা অনেকের চোখেই স্পষ্ট পক্ষপাতমূলক বলে মনে হতে পারে।

রেফারিরাও মানুষ, ভুল করা সম্ভব তাদের পক্ষেও। কিন্তু, সেই ভুলগুলো কখনো কখনো ইচ্ছাপ্রসূত মনে হলেই প্রশ্ন জাগে দর্শকদের মনে। বিশ্বকাপে যেখানে সবাইকে সমানভাবে দেখা হবে ভেবে নেওয়া হয়, সেখানে কোনো এক দলের পক্ষে আসা সিদ্ধান্ত ক্ষুব্ধ করে অন্যদের।










