সংকটে মরক্কোর সবচেয়ে বড় ভরসা

টাইব্রেকারে শেষ স্পট কিকটা যখন জালে জড়াল, ততক্ষণে গোটা টুর্নামেন্টের গল্পটাই যেন একজন মানুষকে ঘিরে গড়ে উঠছিল, ইসমাইল সাইবারি। মন্টেরেতে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করা পেনাল্টিটি তার বিশ্বকাপ ভ্রমণের সবচেয়ে বড় মঞ্চের সবচেয়ে স্নায়ুক্ষয়ী মুহূর্তে আরেকবার নায়ক বনে যাওয়ার গল্প।

টাইব্রেকারে শেষ স্পট কিকটা যখন জালে জড়াল, ততক্ষণে গোটা টুর্নামেন্টের গল্পটাই যেন একজন মানুষকে ঘিরে গড়ে উঠছিল, ইসমাইল সাইবারি। মন্টেরেতে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করা পেনাল্টিটি তার বিশ্বকাপ ভ্রমণের সবচেয়ে বড় মঞ্চের সবচেয়ে স্নায়ুক্ষয়ী মুহূর্তে আরেকবার নায়ক বনে যাওয়ার গল্প।

এই বিশ্বকাপ শুরু থেকেই যেন সাইবারির জন্য লেখা হয়েছিল। ব্রাজিলের মতো ফেভারিট দলের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচেই জ্বলে ওঠেন তিনি, দারুণ এক ফিনিশে মরক্কোর একমাত্র গোলটি করে ম্যাচ শেষ হয় ১-১ ব্যবধানে, যা তাকে এনে দেয় বিশ্বকাপ মঞ্চে নিজেকে চেনানোর প্রথম মুহূর্ত। এরপর স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ শুরুর মাত্র ৭১ সেকেন্ডের মাথায় ব্রাহিম দিয়াজের লব থেকে তীক্ষ্ণ কোণ থেকে দুর্দান্ত শটে জাল কাঁপিয়ে এনে দেন ১-০ ব্যবধানের জয়। দুই ম্যাচেই মরক্কোর হয়ে একমাত্র গোলদাতা ছিলেন তিনিই। আজ নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে নির্ধারিত সময়ে গোল না পেলেও টাইব্রেকারে চাপের মুখে নিখুঁত স্পট কিকে দলকে এনে দেন স্বস্তির জয়, যা তাকে এই বিশ্বকাপে মরক্কোর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য নাম হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত করল।

মাঠের বাইরের গল্পটাও কম রোমাঞ্চকর নয়। স্পেনের তেরাসায় মরক্কান পরিবারে জন্ম নেওয়া সাইবারি শৈশবে বেলজিয়াম হয়ে শেষমেশ নেদারল্যান্ডসে পাড়ি জমান, ২০২০ সালে যোগ দেন পিএসভি আইন্দহোভেনে। ২০২৪-২৫ মৌসুমে নিয়মিত একাদশে জায়গা পেয়ে ১৫ গোল ও ১৩ অ্যাসিস্ট করে পিএসভির লিগ জয়ে রাখেন বড় অবদান, পরের মৌসুমেও ১৫ গোল ও ৮ অ্যাসিস্ট নিয়ে হন বছরের সেরা খেলোয়াড়। বিশ্বকাপের আগেই তার এই ফর্ম নজর কাড়ে ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর, আর এই টুর্নামেন্টে পারফরম্যান্সের পর বায়ার্ন মিউনিখের সঙ্গে প্রায় ৫৫ মিলিয়ন ইউরোর চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গেছে তার, যা কার্যকর হবে বিশ্বকাপ শেষেই।

মাঠে তার আগ্রাসী মানসিকতা আর বুদ্ধিদীপ্ত পজিশনিং প্রতিপক্ষকে বারবার বিভ্রান্ত করছে, আর আজ টাইব্রেকারের চাপ সামলানোর ক্ষমতা প্রমাণ করল তিনি কেবল গোলদাতাই নন, সংকটেও ভরসার নাম। কানাডার বিপক্ষে শেষ ষোলোতেও সাইবারির দিকেই তাকিয়ে থাকবে মরক্কো।

Share via
Copy link