চলতি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শেষ হওয়ার আগেই নিজেদের কাজটা গুছিয়ে ফেলেছে আর্জেন্টিনা। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে লিওনেল স্কালোনির দলের নজর এখন নকআউট অভিযানের ওপর। তবে ফিকশ্চার চূড়ান্ত হওয়ার পর একটি প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে ফুটবলপ্রেমীদের আলোচনায়। তা হলো: বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের শিরোপা ধরে রাখার মিশনে কি সত্যিই অপেক্ষা করছে তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষরা, নাকি এই ‘সহজ’ পথের আড়ালেই লুকিয়ে আছে বড় পরীক্ষার মঞ্চ?
রাউন্ড অব ৩২-এ আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দে। বিশ্বকাপে অভিষেক হলেও আফ্রিকার দলটি নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিয়েছে কঠিন এক গ্রুপ থেকে উঠে এসে। উরুগুয়ে ও স্পেনের মতো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে লড়াই করে নকআউটে জায়গা করে নেওয়া কেপ ভার্দেকে তাই কেবল দুর্বল দল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। নকআউট ফুটবলে একটি ভুলই বিদায়ের কারণ হতে পারে, এই বাস্তবতা আর্জেন্টিনা নিশ্চয়ই ভালোভাবেই জানে।
পরের ধাপে অর্থাৎ শেষ ষোলোতে তাদের প্রতীক্ষায় থাকবে অস্ট্রেলিয়া কিংবা মিসর। অস্ট্রেলিয়া এগিয়ে এলে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতি আবারও তাজা হবে আলবেসিলেস্তদের। সেবার একই পর্বে দুই দলের লড়াইয়ে ২-১ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। তবে বিশ্বকাপের প্রতিটি নতুন আসরই নতুন গল্প লেখে বিধায় অতীতের ফলাফল বর্তমানের নিশ্চয়তা নয় কোনোক্রমেই।

কোয়ার্টার ফাইনালের পথ পেরোতে পারলে আর্জেন্টিনার সামনে দাঁড়াতে পারে কলম্বিয়া অথবা সুইজারল্যান্ড। অর্থাৎ, শেষ আটে পৌঁছানোর পর থেকেই প্রতিপক্ষের মান এবং চাপ দুই-ই বাড়তে শুরু করবে। এখান থেকেই প্রকৃত অর্থে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সক্ষমতার কঠিন পরীক্ষা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন ফুটবল বোদ্ধারা।
আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালে পৌঁছালে সামনে দাঁড়াতে পারে দীর্ঘদিন শিরোপা খরায় ভোগা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল কিংবা ইংল্যান্ডের মতো শক্ত প্রতিপক্ষ। আর সম্ভাব্য ফাইনালে শিরোপার লড়াইয়ে শামিল হবে ফ্রান্স, স্পেন, নেদারল্যান্ডস কিংবা জার্মানির মতো ইউরোপীয় পরাশক্তি। ফলে নকআউটের শুরুটা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক মনে হলেও শেষ পর্যন্ত শিরোপা ধরে রাখার লড়াই মোটেও মসৃণ হওয়ার কথা নয় তিনবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের।
কেননা বিশ্বকাপের ইতিহাস বলে, নকআউট পর্বে প্রতিপক্ষের নাম নয়, পারফরম্যান্সই ভাগ্য নির্ধারণ করে। কাগজে-কলমে দুর্বল দলও মুহূর্তেই টুর্নামেন্টের গতিপথ বদলে দিতে পারে। লিখতে পারে নতুন রূপকথা।

আর্জেন্টিনার সামনে আপাতদৃষ্টিতে সহজ সূচনা থাকলেও বিশ্বকাপের আসল চ্যালেঞ্জ শুরু হবে প্রতিটি ধাপ উত্তীর্ণ হওয়ার মধ্য দিয়ে। আর সেখানেই দৃশ্যমান হবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এই যাত্রা কতটা মসৃণ কিংবা কতটা সংগ্রামের।










