ক্যারিয়ারজুড়ে বহুবার বড় মঞ্চে দলকে বাঁচানো ইয়াসিন বুনো যেন আবারও প্রমাণ করলেন কেন তাকে বলা হয় বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা পেনাল্টি-স্পেশালিস্ট। মন্টেরেতে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টাইব্রেকারে ক্রিসেনসিও সামারভিল ও কুইন্টেন টিমবারের শট রুখে দিয়ে দলকে এনে দিলেন শেষ ষোলোর টিকিট।
এই বিশ্বকাপে অবশ্য বুনোর জন্য চ্যালেঞ্জও কম ছিল না। ব্রাজিলের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে ১-১ ড্রয়ে গোলপোস্ট সামলান তিনি, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে রাখেন ক্লিন শিট। তবে হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে এক বিচিত্র মুহূর্তের মুখোমুখি হন বুনো, জিন-কেভিন ডুভার্নের ক্রস থেকে লেনি জোসেফের শট তার গা থেকে প্রতিহত হয়ে জালে জড়ালে তা আত্মঘাতী গোল হিসেবে রেকর্ড হয়। তবে এতে দমে না গিয়ে সেই ম্যাচেরই যোগ করা সময়ে হাইতির দুকেন্স নাজোঁর জোরালো ফ্রি-কিক দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন তিনি, আর শেষ পর্যন্ত মরক্কো জেতে ৪-২ গোলে।
ক্যারিয়ারে চোখ ফেরালে দেখা যায়, কানাডায় জন্ম নিয়ে কাসাব্লাঙ্কায় বেড়ে ওঠা বুনো ওয়াইদাদের যুব দল থেকে শুরু করে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ, সারাগোসা ও জিরোনা ঘুরে সেভিয়ায় পৌঁছে পান ক্যারিয়ারের সেরা সময়, ২০২২ বিশ্বকাপে কাতারে মরক্কোর ঐতিহাসিক সেমিফাইনাল যাত্রায় ছিলেন মূল স্তম্ভ, স্পেনের বিপক্ষে পেনাল্টি সেভে রাতারাতি পান বিশ্বজোড়া পরিচিতি। সেভিয়ার হয়ে দুটি ইউরোপা লিগ শিরোপাও জেতেন তিনি, ২০২৩ ফাইনালে রোমার বিপক্ষে টাইব্রেকার সেভে জেতেন ম্যাচসেরার পুরস্কার।

৩৫ বছর বয়সেও আজকের পারফরম্যান্স প্রমাণ করল, বড় মঞ্চে স্নায়ুচাপ সামলানোয় মরক্কোর এই অভিজ্ঞ প্রহরীর তুলনা মেলা ভার। শেষ ষোলোয় কানাডার বিপক্ষে আরও একবার নায়কের ভূমিকায় দেখা যেতে পারে তাকে।











