৩৬৯ রান ও ৫ সেশনের টেস্ট ম্যাচ

মোটে দেড়দিনেই শেষ হল টেস্ট ম্যাচ। আর সেখানে টসজয়ী দলটাই লিখে দিল ম্যাচের ভাগ্য। বাংলাদেশ ডুবল বিরাট দু’টো ব্যাটিং বিপর্যয়ের খেসারত দিয়ে। ফিরে এল সেই ইনিংস ব্যবধানে পরাজয়ের যুগ।

মোটে দেড়দিনেই শেষ হল টেস্ট ম্যাচ। আর সেখানে টসজয়ী দলটাই লিখে দিল ম্যাচের ভাগ্য। বাংলাদেশ ডুবল বিরাট দু’টো ব্যাটিং বিপর্যয়ের খেসারত দিয়ে। ফিরে এল সেই ইনিংস ব্যবধানে পরাজয়ের যুগ।

ডারউইনে বাংলাদেশের ৯ উইকেটের জয়ের পর ম্যাকায়ে অস্ট্রেলিয়া দিয়েছে মোক্ষম জবাব। ফলে দুই টেস্টের সিরিজ শেষ হল ১-১ সমতায়। দ্বিতীয় টেস্ট স্থায়ী হয় মাত্র পাঁচ সেশন, দু’দল মিলে করতে পারে মাত্র ৩৬৯ রান।

ম্যাকায়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ অ্যারেনায় টস জিতে ফিল্ডিং নেওয়া অস্ট্রেলিয়ার সিদ্ধান্তের যথার্থতা প্রমাণ হতে সময় লাগেনি। মিশেল স্টার্কের গতি ও সুইংয়ের সামনে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ যেন শুরু থেকেই খুঁজে পায়নি নিজেদের।

সাদমান ইসলাম, তানজিদ হাসান তামিম, মুমিনুল হক ও নাজমুল হোসেন শান্ত—একে একে ফিরে যান সাজঘরে। মাত্র ১০ রানের মধ্যেই ৪ উইকেট হারায় বাংলাদেশ, যার চারটিই তুলে নেন মিশেল স্টার্ক। শেষ পর্যন্ত মাত্র ৬৪ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। স্টার্ক ক্যারিয়ার সেরা ১২ রানে ছয় উইকেট নিয়ে একাই ধসিয়ে দেন বাংলাদেশের ব্যাটিং।

 

ব্যাট হাতে ব্যর্থতার পর বল হাতে দুর্দান্ত জবাব দেন শরিফুল ইসলাম। ৪৮ রানে ৭ উইকেট নিয়ে তিনি গড়েন অসাধারণ এক কীর্তি। তার বোলিংয়ের সুবাদে অস্ট্রেলিয়া থামে ২১০ রানে। তবে বাংলাদেশের ৬৪ রানের জবাবে ১৪৬ রানের লিড নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তখনও অস্ট্রেলিয়ার হাতে।

সেই লিডের জবাব দিতে নেমেও বদলায়নি বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের চিত্র। মাত্র ৫ রানেই সাদমান ও মুমিনুল ফিরে যান। এরপর তানজিদ থামেন ৯ রানে। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিম কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। শান্ত করেন ৩১ রান, তবে নাথান লায়নের বলে মিচেল স্টার্কের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরতে হয় তাকে।

আর দুই ইনিংসেই বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের হতাশার নাম লিটন দাস। প্রথম ইনিংসে ৫ বল খেলে শূন্য, দ্বিতীয় ইনিংসেও ১০ বল মোকাবিলা করে কোনো রান না করেই ফেরেন এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান। মিডল অর্ডারে তার কাছ থেকে বড় ইনিংসের প্রত্যাশা থাকলেও দুবারই ব্যর্থ হন তিনি।

এরপর দ্বিতীয় ইনিংসেও বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসিয়ে দেন স্টার্ক। ৩৯ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচে তার শিকার দাঁড়ায় ১০টি। প্যাট কামিন্স ও নাথান লিঁও নেন তিনটি করে উইকেট। ম্যাচ ও সিরিজ সেরা – দু’টো পুরস্কারই বাগিয়ে নিয়েছেন মিশেল স্টার্ক।

 

শেষ পর্যন্ত ৯৫ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। দুই ইনিংস মিলিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৫৯ রান। অস্ট্রেলিয়াকে দ্বিতীয়বার ব্যাট করতেই হয়নি—ইনিংস ও ৫১ রানের বিশাল ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নেয় স্বাগতিকরা।

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link