বিদেশি নিয়ে বিপাকে আইপিএল

চলমান পরিস্থিতিতে প্লে-অফের আগে প্রায় প্রতিটা দলই হারাবে শক্তি। আইপিলের জৌলুসে যেমন তা আঘাত হানবে, ঠিক তেমনি প্রতিযোগিতার মাত্রা খানিক কমিয়ে দিতে পারে।

ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে যাচ্ছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের দলগুলোর। পরিবর্তীত পরিস্থিতিতে বিদেশি খেলোয়াড়দের নিয়ে শঙ্কায় ফ্রাঞ্চাইজিগুলো, বিশেষ করে যে দলগুলো রয়েছে টেবিলের শীর্ষে। খেলোয়াড়দের জাতীয় দলের জন্যে ডাক আসতে শুরু করেছে। সুতরাং একাদশ আর পরিকল্পনার টেবিলে এসেছে বড়সড় কম্পন।

শুরুতেই গুজরাট টাইটান্সের কথাই বলা যাক। দলটার সাফল্যের বড় অংশ দলটির টপ অর্ডারের উপর নির্ভরশীল। সেখানে জশ বাটলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের জন্যে ইংল্যান্ডের স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন তিনি। অতএব তাকে ছাড়তে হবে আইপিএল। এখনই ঘটনা ক্যারিবিয়ান শেরফেন রাদারফোর্ডের।

শুধু কি তাই? সামনেই বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপের ফাইনাল। সেই ম্যাচের প্রস্তুতির জন্যে দক্ষিণ আফ্রিকার খেলোয়াড়দেরও ৩০ তারিখের মধ্যে দলের সাথে যুক্ত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে- দেশটির ক্রিকেট বোর্ড। জেরাল্ড কোৎজে-কেও আইপিএলের প্লে-অফের আগে ফেরত যেতে হবে।

অতএব গুজরাটের একাদশের বারোটা বেজে যাবে- ভারসাম্য নষ্ট হওয়া অবধারিত। একই রকম সমস্যার সম্মুখীন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুও। জ্যাকব বেথেল, রোমারিও শেফার্ডরাও আইপিএল শেষ না করেই ফেরত যাবেন। প্রতিটা ক্রিকেট বোর্ড ২৫ তারিখ অবধিই খেলোয়াড়দের দিয়েছিল ছাড়পত্র। নির্ধারিত সূচিতে ততক্ষণে অবশ্য আইপিএল শেষ হওয়ার কথা ছিল।

অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে সৃষ্টি হওয়া উত্তাপের কারণে অস্ট্রেলিয়ান খেলোয়াড়দের প্রাপ্যতাও শঙ্কার মুখে। দেশটির সরকার নিরাপত্তার কারণে খেলোয়াড়দের নিরুৎসাহিত করছে। তাছাড়া তাদেরকেও প্রস্তুত হতে হবে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপের জন্যে।

এমন পরিস্থিতিতে প্লে-অফের আগে প্রায় প্রতিটা দলই হারাবে শক্তি। আইপিলের জৌলুসে যেমন তা আঘাত হানবে, ঠিক তেমনি প্রতিযোগিতার মাত্রা খানিক কমিয়ে দিতে পারে। তবে দলগুলোর পরিকল্পনা যে একেবারে অগোছালো হয়ে যাবে- সেটা প্রায় নিশ্চিত।

এমন পরিস্থতিতে আইপিএল ফ্রাঞ্চাইজিগুলো কি করবে-সেটাই এখন দেখবার বিষয়। আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিল ও বিসিসিআইও হয়ত যথাসাধ্য চেষ্টা করবে বাকি বোর্ডগুলোর সাথে আলোচনার মাধ্যমে একটা সমাধান খোঁজার। কিংবা বেছে নেবে ভিন্ন কোন পথ।

Share via
Copy link