সব কিছু চুপচাপ ম্যানেজ হয়ে যায়। কেউ শাস্তি পায়, কেউ ফিরে আসে। কেউ বদলায়, কেউ একইরকম থাকে। কিন্তু একটা বিষয় থেকে যায়—একটা দেশের প্রতিনিধিত্ব যারা করে, তাদের থেকে এমন আচরণ কি কাম্য?
মামলা-মোকদ্দমা, থানাপুলিশ—এতটাই নিয়মিত যে বিস্ময় জাগে না আর বাংলাদেশ ক্রিকেটে। মাঠের পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা নেই, মাঠের বাইরে নেই শৃঙ্খলা। তাসকিন আহমেদের বিরুদ্ধে যা অভিযোগ তা বাকিদের তুলনায় নেহায়েৎই ‘নিরীহ’।
সাকিব আল হাসান তো শৃঙ্খলাভঙ্গকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। মাঠে স্টাম্পে লাথি মারা, গ্যালারিতে দর্শককে আক্রমণ, মোবাইল ফোন ছুড়ে ফেলা, বিজ্ঞাপন শুটিংয়ের জন্য অনুশীলন বাদ দেওয়া—সবই করেছেন অনায়াসে।

শামীম হোসেন পাটোয়ারী, সাম্প্রতিক সময়ের আলোচিত নাম। আমিরাতের বিরুদ্ধে ম্যাচ হেরে গ্যালারিতে তর্কে জড়িয়েছেন দর্শকদের সঙ্গে। ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। একই ব্যক্তির পোশাক-আশাক নিয়েও সম্প্রতি বিসিবি অফিসে উঠেছে নিন্দার ঝড়।
আগে-পড়ে এমন ঘটনা আরও ঘটেছে। ১৬ ওয়ানডে আর ১০ টি-টোয়েন্টি খেলা আরাফাত সানি জেল খেটেছেন নারী নির্যাতন ও তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলায়। একসময় জাতীয় দলের পেসার শাহাদাত হোসেন গৃহকর্মীকে নির্যাতনের মামলায় স্ত্রীসহ জেলে গেছেন।
রুবেল হোসেনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছিলেন হ্যাপি নামের এক সময়ের অভিনেত্রী। মামলা নিয়ে দেশজুড়ে হইচই, এরপর মিমাংসা হয়। লাল বলের পেসার মোহাম্মদ শহীদের বিরুদ্ধে বিসিবিতেই লিখিত অভিযোগ আনেন তার স্ত্রী—শারীরিক নির্যাতনের।

তালিকায় আছে আল-আমিন হোসেন কিংবা নাসির হোসেন মত ক্রিকেটারও। আল-আমিনের প্রথম স্ত্রী তার বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের মামলা করেন। নাসিরের বিরুদ্ধে মামলা এখনও চলমান—অন্যের স্ত্রীকে প্রলুব্ধ করে বিয়ে করার অভিযোগে। ঢাকার আদালতে চলছে বিচার। তামিমা, তার কথিত স্ত্রী, সেই মামলার আরেক আসামি।
এই তালিকা এখানেই শেষ নয়। মাঠের বাইরে আরও অনেক ক্রিকেটার জড়িয়েছেন নানা অপ্রীতিকর ঘটনায়—সব ঘটনা আলোচনায় আসেনি, সব মামলা আদালত পর্যন্ত যায়নি।
তাসকিনের ঘটনা তুলনামূলকভাবে কম আলোচনার, কম বিতর্কিত। কিন্তু ব্যাপারটা এখানেই শেষ নয়। প্রশ্নটা বড়—মাঠের পারফরম্যান্সই কি সব কিছু? নাকি মাঠের বাইরের চরিত্রও গুরুত্বপূর্ণ? দেশের জার্সি পরে খেলা মানে কি শুধু রান বা উইকেট, নাকি তাঁদের মানুষ হিসেবেও বাকিদের জন্য আদর্শ হতে হবে?

কতদিন চলবে এই দায়হীনতা? আপোষ হয়, মামলা উঠে যায়, ক্রিকেটার ফিরেও আসে। কেউ কিছু মনে রাখে না। কিন্তু, জাতীয় দলের জার্সির মান নিচে নেমে যায় বারবার।










