বিসিবি নির্বাচনে বুলবুল-তামিম সমীকরণ, ক্রিকেট রাজনীতির নতুন অধ্যায়

এদিকে আরেক জটিলতা আছে। বিসিবির পরিচালক হয়ে গেলে আর কোনোভাবে মাঠে ফেরা যাবে না। অর্থাৎ তামিম খেলোয়াড় হিসেবে ফিরতে চাইলে এই পথ বন্ধ। বিপিএল দল ফরচুন বরিশালেরও নতুন অধিনায়ক খুঁজতে হবে।

সাবেক দুই অধিনায়ক। বাংলাদেশ ক্রিকেটের গ্রেট দুই ব্যাটার। মাঠের খেলায় তাঁদের কোনোদিন দেখা হয়নি। তবে, এবার সম্ভবত নিজেদের জীবনের সবচেয়ে বড় খেলায় মুখোমুখি হতে চলেছেন এই দু’জন। বাতাসে জোর গুঞ্জন এই দু’জনের মধ্যে একজনই হতে চলেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে অক্টোবরেই। এরপরই নির্বাচন। এ নিয়ে আলোচনায় আসছেন দুই সাবেক অধিনায়ক—আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও তামিম ইকবাল।

দেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান বুলবুল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ভোটে প্রার্থী হবেন না। তবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) তাঁকে মনোনীত করলে এবং পরিচালকরা আস্থা রাখলে তিনি দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। অন্যথায় এখানেই থামবেন। অন্যদিকে প্রথমবারের মতো খোলাখুলি জানিয়েছেন তামিম ইকবাল—তিনি বিসিবি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তবে সভাপতি পদে লড়বেন কি না, তা এখনও পরিষ্কার নয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, বিসিবির ২৫ সদস্যের বোর্ড গঠিত হয় তিন ক্যাটাগরির নির্বাচিত পরিচালক দিয়ে।

অনেক দিন ধরেই বিসিবি সভাপতি হিসেবে তামিমের নাম ঘুরপাক খাচ্ছিল। কিন্তু তিনি নীরব ছিলেন। এবার প্রথমবারের মতো খোলামেলা জানালেন নিজের অবস্থান। তামিম এক সাক্ষাৎকারে বললেন, ‘বিসিবিতে আগে নির্বাচন করে পরিচালক হয়ে আসতে হবে। এরপর সভাপতি পদে দুজন দাঁড়ালে পরিচালকদের ভোটে একজন নির্বাচিত হবেন। তাই প্রশ্ন যদি করেন, আমি বিসিবির নির্বাচনে অংশ নেব কি না—এটি বলতে পারি, আমার খুব ভালো সম্ভাবনা আছে। এবার নির্বাচন করছি আমি।’

সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০২১ সালের ৬ অক্টোবর। সে হিসেবে ৭ অক্টোবরের মধ্যে নতুন নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। সভাপতির নির্দেশে কমপক্ষে ৩০ দিন আগে কাউন্সিলর মনোনয়নের নোটিশ দিতে হবে সিইওকে। এরপর নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা, সময়সূচি ও নিয়ম চূড়ান্ত করবে। তবে, সংশয় রয়ে গেছে—জাতীয় নির্বাচনের আগে বিসিবি নির্বাচন হলে রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়তে পারে বোর্ড। তাই অনেকেই মনে করছেন, জাতীয় নির্বাচনের পর অ্যাডহক কমিটি দিয়েই বোর্ড চালানো বেশি যৌক্তিক।

খেলোয়াড়ি জীবনে আধিপত্য দেখানো তামিম এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ক্রিকেট প্রশাসনে। অবসর নেওয়ার পর থেকেই গুঞ্জন, বিসিবির শীর্ষপদে আসছেন তিনি। সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদও এর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে ফারুক এখন আর বোর্ডে নেই, আর তাঁর স্থলাভিষিক্ত বুলবুলও নিজের অবস্থানে অনড়—নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, কেবল মনোনয়নে রাজি।

অন্যদিকে তামিম অবসরের আগেও নাটকীয় সিদ্ধান্ত দিয়ে আলোড়ন তুলেছিলেন। এবারও তেমনই আলোচনার কেন্দ্রে। জনপ্রিয়তা, অভিজ্ঞতা ও অবদানের কারণে অনেকেই তাঁকে সম্ভাব্য সভাপতি ভাবছেন। তবে বাস্তবতা ভিন্ন। সভাপতি হতে হলে আগে পরিচালক পদে জয়ী হতে হবে। সেই পথ সহজ নয়, রাজনৈতিক সমীকরণও এখানে বড় ফ্যাক্টর। অতীত বলছে, বিসিবির সভাপতি পদে যারা ছিলেন—সবাই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সরকারের সমর্থন ছাড়া এই চেয়ারে বসা প্রায় অসম্ভব।

তামিমের সামনে তাই দুটি পথ— প্রথমত, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আস্থা অর্জন করে সভাপতি হওয়া, তবে সরকারের অধ্যায় শেষ হলে আবার বিদায় জানাতে হতে পারে চেয়ারে। না হয়, পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের সঙ্গেই আগাম সমঝোতা তৈরি করা। তবে কোন দল ক্ষমতায় আসছে, সেটাই এখন অনিশ্চয়তার জায়গা।

এদিকে আরেক জটিলতা আছে। বিসিবির পরিচালক হয়ে গেলে আর কোনোভাবে মাঠে ফেরা যাবে না। অর্থাৎ তামিম খেলোয়াড় হিসেবে ফিরতে চাইলে এই পথ বন্ধ। বিপিএল দল ফরচুন বরিশালেরও নতুন অধিনায়ক খুঁজতে হবে। সবশেষে, তামিম কেবল মাঠের নায়ক হবেন, নাকি ক্রিকেট রাজনীতিতেও নেতৃত্ব দেবেন—তার জট খুলবে খুব শিগগিরই।

লেখক পরিচিতি

সম্পাদক

Share via
Copy link