টানা তিন চার, এরপর দুই ছক্কা। সাকিব আল হাসানের বুড়ো হাড়ের ভেল্কি। অস্পষ্ট নজরের অভিজ্ঞ শিকারি। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরি। ক্যারিয়ারের গোধুলি লগ্নে সাকিবের আরও একটিবার নিজের ভেতরকার ক্রিকেটার সত্ত্বাকে জাগিয়ে তোলা ইনিংস।
চোখের বিরল রোগে দৃষ্টিশক্তির ঘাটতি। তাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল সাকিবের ব্যাটিং। স্রেফ বোলার হিসেবে সাকিবের যেকোন দলে অন্তর্ভুক্তি হয়েছিল প্রশ্নবিদ্ধ। কিন্তু সাকিব শেষ বেলাতেও লড়াই করবার সাহস সঞ্চার করলেন। দেখালেন সক্ষমতা, বোঝালেন সামর্থ্য।
হাতি বুড়ো হলেও দাম তার লাখ টাকা। সাকিব তো রীতিমত ক্রিকেট বিশ্বের সেই দুর্লভ সাদাহাতি। ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে আগ্নেয়গিরির ভয়াল বিস্ফোরণ ঘটল দানবীয় সাকিবের ব্যাটের আঘাতে। একের পর এক বল আছড়ে পড়েছে বাউন্ডারির বাইরে। এই বাংলার এক ব্যাটার আনন্দের হিল্লোল বইয়ে দিল ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে।

এদিন সেইন্ট লুসিয়া কিংসের বিপক্ষে তুলকালাম কাণ্ড ঘটালেন সাকিব। অ্যান্টিগা এন্ড বারবুডা ফ্যালকন্সের হয়ে তিনি ব্যাটিং করতে নেমেছিলেন চার নম্বর ব্যাটার হিসেবে। প্রথমে নেমেই এক ঝড়ের পূর্ভাবাস দেন তিনি টানা দুই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে। এরপর অবশ্য থমকে যান তিনি। ঠিক ঝড়ের আগের থমথমে পরিবেশের মত। দুই চারের পরও প্রথম ১০ বলে সাকিবের সংগ্রহ ১১ রান।
এরপর ক্যারিবিয়ান দ্বীপে সাকিব নামক টর্নেডো দেখাল তার আসল রুপ। রস্টন চেজকে পর পর দুই বলে দুই ছক্কা হাঁকিয়ে ব্যাটিং গিয়ার শিফট করেন বা-হাতি এই অলরাউন্ডার। এরপর ডেভিড উইজি মূলত হয়েছেন সাকিবের শিকার। স্কটিস অলরাউন্ডারের এক ওভারে সাকিব আদায় করেন ২৪ রান। তিন চার, আর দুই ছক্কায় উইজিকে যেন বুঝিয়ে দিলেন কেন সাকিবই ছিলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।
প্রায় ২৩৪ স্ট্রাইকরেটের ঝড়ে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরি করেন সাকিব। প্রথম ১০ বলে ১১ রানের পর পরবর্তী ১০ বলে সাকিব নিজের নামের পাশে যুক্ত করেছেন আরও ৪০টি রান। ভয়াবহ আগ্রাসন! বিধ্বংসী এক ইনিংস নিঃসন্দেহে। এর আগে ২০ বলে হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে। রংপুর রাইডার্সের হয়ে খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে এসেছিল সাকিবের প্রথম দ্রুততম হাফসেঞ্চুরি।

এবার অ্যান্টিগার হয়ে আরও একটি দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরি হাঁকালেন তিনি। তাতে বরং আফসোস বেড়েছে। এশিয়া কাপের দ্বারপ্রান্তে দাৃয়ে সাকিবের এমন ইনিংস বিনা বাক্যে আক্ষেপ বাড়িয়েছে।











