৬১ বলে ৮৬ রানের জুটি। শেষ ১০ ওভারে বাংলাদেশ কোনো উইকেট না হারিয়ে তুলল ৮৫ রান। বাংলাদেশ বোর্ডে জমা করল ১৩৯ রান। হ্যাঁ, এটুকু শুনলে যথেষ্ট মনে হওয়ার কথা নয়, কিন্তু শুরুর গল্পটা জানলে এটা বেশ ‘অভাবনীয়’ কামব্যাক বলতেই হচ্ছে।
প্রথম দুই ওভার, দু’টি উইকেট মেইডেন। নতুন বলে আগুন ঝড়িয়েছিল শ্রীলঙ্কার পেসাররা। নুয়ান থুসারা আর দুশমন্থ চামিরা প্রথম দুই ওভারে ফিরিয়ে দেন বাংলাদেশের সবেধন নীলমণি দুই ওপেনারকে। বাংলাদেশ দল তখন এশিয়া কাপের মঞ্চে ধুঁকছিল। টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে ইনিংসের প্রথম দুই ওভারেই মেইডেন উইকেট হওয়ার দ্বিতীয় নজীর এটা।
ইনিংসের প্রথম ১৪ বলে কোনো রানই আসল না। দুই ওপেনারকে হারিয়ে দেয়াল চাপা পরিস্থিতি। স্কোরবোর্ডে রান আসা শুরু করলেও সেটা শম্বুক গতিতে! অর্ধেক পথ পেরোতেই ৫৪ রানে ৫ উইকেট নেই। এর মধ্যে লঙ্কান ফিল্ডার কামিল মিশারার বাউন্ডারি লাইন থেকে পাঠানো দুর্দান্ত এক থ্রো-তে রান আউট হন তাওহীদ হৃদয়। চারদিক থেকে চাপ, ব্যর্থতার ছায়া ঘনিয়ে আসছিল।

কিন্তু সেই অন্ধকারে আলোর রেখা হয়ে দাঁড়ালেন জাকার আলী ও শামীম হোসেন। ষষ্ঠ উইকেটে গড়লেন অবিচ্ছিন্ন ৮৬ রানের জুটি। পিঠ দেয়ালে ঠেকে যাওয়া অবস্থায় খেলা লড়াইটা গড়ে দিল ভরসা। তাদের সেই প্রতিরোধী ব্যাটিংই বাংলাদেশের ইনিংসকে দিল লড়াই করার মতো সংগ্রহ, অন্ধকার থেকে এনে দিল আশার আলো।
টি–টোয়েন্টি ইতিহাসে ষষ্ঠ উইকেট বা এর নিচে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড গড়লেন দু’জন মিলে। তাঁরা ভেঙে দিয়েছেন ২০১৯ সালে মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আফিফ হোসেন ও মোসাদ্দেক হোসেনের করা সপ্তম উইকেটে ৮২ রানের জুটির রেকর্ড।
শামিম ও জাকের দু’জনই ৩৪ টি করে ডেলিভারি খেলেন। জাকের ৪১ আর শামিম ৪২ রান করেন। শেষ অবধি নট আউট ছিলেন। দু’জন মিলে হাঁকিয়েছেন পাঁচটি চার ও একটি ছক্কা। হ্যাঁ, বাংলাদেশের রানটা আরও বেশি হতে পারত। বিশেষ করে শেষের দিকে দুশমন্থ চামিরা একের পর এক ইয়র্কার দিয়ে গেছেন, যার জবাব ছিল না শামিম-জাকেরদের সামনে।











