শামীম পাটোয়ারি যেন এক উড়ন্ত ঈগল। হাওয়ায় ভেসে ক্যাচ ধরা, কিংবা শরীরকে পুরো ছুড়ে দিয়ে রান আটকানো- সবক্ষেত্রেই তিনি যেন অনন্য। ক্রিকেট ময়দানে একটি ক্যাচ যে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয়, কয়েকটি দূর্দান্ত ফিল্ডিং জয়-পরাজয়ের পার্থক্য গড়ে দেয়। সে কাজে প্রতিনিয়ত মুন্সিয়ানা দেখিয়ে যাচ্ছেন শামীম হোসেন পাটোয়ারি।
শারীরিক গঢ়নে বিশালদেহী নন শামীম। তবে সেটা তার জন্যে প্রতিবন্ধকতা নয়। নিজের ফ্লেক্সিবিলিটিকে অসাধারণভাবে কাজে লাগাতে পারেন তরুণ এই খেলোয়াড়। আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিনি শর্ট কাভারে তালুবন্দী করেন চোখ ধাঁধানো এক ক্যাচ।
নাসুম আহমেদের বলে রহমানুল্লাহ গুরবাজ খেলেন পাওয়ারফুল স্ল্যাশ। বলটা মাটির খুব কাছে দিয়েই উড়ে যাচ্ছিল। শামীম শিকারি ঈগলের মত ছোঁ মেরে তা নিজের আয়ত্বে নিয়ে নেন। যথাসময়ের ফুল স্ট্রেচড ডাইভে ক্যাচটা পরিণত হয় দৃষ্টিনন্দন এক শিল্পকর্মে। ধারাভাষ্যকক্ষ থেকে রামিজ রাজা তো বলেই বসলেন, ‘এটা সিরিজ সেরা ক্যাচ’।

এদিন ফিল্ডিংয়ে শামীম ছিলেন চোখ ধাঁধানো। ইনিংসের ১১তম ওভারেও তিনি ফুল স্ট্রেচড ডাইভে চারটি রান বাঁচিয়ে দেন। এমন দুর্ধর্ষ ফিল্ডিং গোটা দলকে চাঙ্গা করে তোলে, আর প্রতিপক্ষকে ফেলে দেয় ঘোরতর সন্দেহর মধ্যে। তাতে করে একটা মানসিক চাপের বলয় সৃষ্টি হয়। আর সেই চাপ প্রতিপক্ষ ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করে।
আধুনিক ক্রিকেটের শুধু ব্যাটে-বলে পারফরম করলেই হয় না। ফিল্ডার হিসেবেও হতে হয় অনবদ্য। বাংলাদেশ দলে এমন তুখোড় ফিল্ডার রয়েছেন হাতেগোনা কয়েকজন। এদের মধ্যে শামীম অন্যতম। আর তিনিই যেন বাকিদের জন্য অনুপ্রেরণা। মাঠে শামীমের উপস্থিতি, গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে টনিক হিসেবে কাজ করতে পারে যেকোন দিন।
তবে সে জন্য শামীমকে ব্যাট হাতেও নিজের জায়গাটা পোক্ত করতে হবে। সে কাজটা করতে পারলেই হয়ত শামীম বনে যাবেন নতুন ফিল্ডিং বিপ্লবের সম্মুখ সারির সেনানী। পথ প্রদর্শক হবেন অনুজদের।












