প্রথম সুপার ওভারে রংপুরে জয় ছিনিয়ে নিল রাজশাহী

রংপুর রাইডার্সের সহজ ম্যাচটাকে সুপার ওভার পর্যন্ত টেনে নিয়ে গেলেন রিপন মণ্ডল। রোমাঞ্চ টিকিয়ে রেখে, রংপুর রাইডার্সের সহজ জয়কেও ছিনিয়ে নিল রাজশাহী ওয়ারিয়ার্স। এবারের মৌসুমে প্রথম সুপার ওভার ম্যাচ। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের চতুর্থ ঘটনা। রিপন মণ্ডলের কল্যাণে হেরে যাওয়া ম্যাচটাও জিতে নিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তরা।

টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নিমন্ত্রণ পায় রাজশাহী ওয়ারিয়ার্স। লিটন দাসের দূর্দান্ত ক্যাচে, তানজিদ হাসান তামিমের ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে বেশ আগেভাগেই। কিন্তু তবুও রাজশাহী ছিল বড় সংগ্রহের পথে। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও শাহিবজাদা ফারহানের জুটিতে ভর দিয়ে দুর্বার গতিতে রান তুলে যাচ্ছিল দলটি।

শান্তর আউট হওয়ার আগে পর্যন্ত প্রায় ৮.৫০ রেটে রান তুলে যাচ্ছিলেন রাজশাহীর দুই ব্যাটার। ফারহান ব্যর্থতার ঘোর কাটিয়ে ফিফটি তুলে নেন। শান্তও এগিয়ে যাচ্ছিলেন সেই পথে। কিন্তু হুট করেই এসে যায় ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। মনোযোগ হারিয়ে বিদঘুটে উপায়ে রান আউট হন শান্ত। সেখান থেকেই ছন্দপতন ঘটে রাজশাহীর।

১২ ওভারে এক উইকেটের বিনিময়ে ১০২ রান স্কোরবোর্ডে তুলে ফেলেছিল রাজশাহী। এরপর শান্ত ১০৩ রানের মাথায় আউট হলে, রাজশাহীর সংগ্রহ থামে স্রেফ ১৫৯ রানে। দলের মিডল অর্ডার ব্যর্থতার যাচ্ছেতাই নিদর্শন স্থাপন করে। মুশফিকুর রহিম, ইয়াসির আলী রাব্বি, হুসেইন তালাত ও মোহাম্মদ নওয়াজ- এই চার ব্যাটার সর্বসাকুল্যে ৩১ রান সংগ্রহ করেন ৩২ বলে।

ম্যাচের মোমেন্টাম পুনঃরায় নিজেদের হাতে পেয়ে আত্মবিশ্বাসী শুরু করেন লিটন কুমার দাস। কিন্তু অপরপ্রান্তে ডেভিড মালান ছিলেন খানিকটা নড়বড়ে। তবে আত্মবিশ্বাসী লিটনের যাত্রা হয়নি দীর্ঘায়িত। তার অকাল প্রস্থানের পর জয়ের রাস্তা তৈরি দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নেন তাওহীদ হৃদয়।

৫৩ রানের এক দারুণ কার্যকর ইনিংস খেলেন তাওহীদ হৃদয়। অন্যদিকে ডেভিড মালানের ব্যাট থেকে আসে ৫৩ রান। দুইজনে মিলে গড়েন ১০০ রানের জুটি। তবুও শেষ অবধি জয়ের দুয়ার অবমুক্ত করতে পারেনি রংপুর রাইডার্স। দলের বাকি ব্যাটারদের ব্যর্থতায় সহজ ম্যাচটাও হাতছাড়া হয়েছে একবারের চ্যাম্পিয়ন দলটির।

শেষ ওভারে রংপুরের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল সাত রান। খুশদিল শাহ, নুরুল হাসান সোহান, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদরা সেই ৬ বলে ৭ রানের সমীকরণে মেলাতে ব্যর্থ হয়। রিপনের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। এরপর সুপার ওভারেও রিপন দেখিয়েছেন নিজের মুন্সিয়ানা। মাত্র ৬ রানে আটকে রাখেন তিনি রংপুরের সংগ্রহকে। তবে তানজিদ হাসান তামিম এবার আর কোন ভুল করেননি। দলকে এনে দেন দারুণ জয়।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link