হৃদয় ফিরছেন চেনা ছন্দে

তিন নম্বরেই তাওহীদ হৃদয় ঠিক কতটুকু কার্যকর- সে প্রমাণ রাখলেন আরেকটিবার। প্রথম ম্যাচের ব্যর্থতার ভুলে, দ্বিতীয় ম্যাচেই ফিফটি তুলে নিলেন ডানহাতি এই ব্যাটার।

ফিফটি হাঁকানো দিনটা হতে পারত রঙিন। কিন্তু সুপার ওভারের স্নায়ুযুদ্ধে হেরে সবটাই হয়েছে মলিন। তবে আশার বাণী তাওহীদ হৃদয়ের ব্যাট থেকে ঝড়েছে বটে। যে আস্থার স্তম্ভ হয়ে উঠেছিলেন তিনি, সেই আস্থার প্রতিবিম্ব খানিকটা হলেও প্রতিফলিত হয়েছে রাজশাহী ওয়ারিয়ার্সের বিপক্ষে। ধীরে ধীরে হলেও ছন্দে ফিরছেন তাওহীদ হৃদয়, সেটাই বরং স্বস্তি।

রাজশাহী ওয়ারিয়ার্সের দেওয়া ১৬০ রানের লক্ষ্যমাত্রায় ব্যাটিং করতে নামে রংপুর রাইডার্স। লিটন দাসের আত্মবিশ্বাসী শুরু লম্বা ইনিংস হওয়ার আগেই থমকে যায়। এরপর ডেভিড মালানকে সাথে নিয়ে ইনিংস মেরামতের যজ্ঞে নেমে পড়েন তাওহীদ হৃদয়। সাম্প্রতিক সময়ে হৃদয়কে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী মনে হয় না বাইশ গজে। খারাপ সময়ের প্রভাবটা এখনও তার মস্তিষ্কে বিদ্যমান।

এদিনও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি অবশ্য। তবে হৃদয়ের মস্তিষ্কের সকল চাপকে রানে রুপান্তরিত করলেন রাজশাহীর বিপক্ষে। দারুণ দক্ষতার পরিচয় দিয়ে গেছেন তিনি ব্যাট হাতে। ৩৯ বলে ৫৩ রানের ইনিংসটি ছিল সময়োপযোগী ও যথাযথ। অতিরিক্ত আগ্রাসনের প্রয়োজনীয়তা ছিল না, হৃদয় কার্যত অহেতুক ঝুঁকিও নেননি।

সাতখানা চারের বিপরীতে শূন্য ছক্কার হিসেব সে বার্তাই দেয়। যদিও শেষ অবধি দায়িত্বশীল ইনিংসটিতে আর ধৈর্য্য ধরে রাখতে পারেননি হৃদয়। মেহরব হোসেনের বলে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে মিড উইকেট সীমানায় ক্যাচ আউট হন তিনি। ততক্ষণে অবশ্য দলের জয়ের ভীত পোক্ত হয়ে গেছে।

ডেভিড মালানের সাথে হৃদয়ের ৭২ বলে ১০০ রানের জুটিটি মূলত রংপুরের সকল দুশ্চিন্তা দূর করে দিয়েছিল। কিন্তু দলের বাকি ব্যাটাররা হ-য-ব-র-ল পাকিয়ে ম্যাচটিকে ঠেলে দেন সুপার ওভারের দোদুল্যমান সুতার উপর। সেখানেও দিনের অন্যতম সেরা ব্যাটার হৃদয়কে দেওয়া হয় দায়িত্ব। কিন্তু এদফা তিনি ফেল করলেন দলের বাকিদের মত।

সুপার ওভারে আশানুরুপ রান সংগ্রহ করতে পারেনি রংপুর রাইডার্স। সে দায় হৃদয়ের উপরও বর্তায়। কিন্তু পুরোপুরি তাকে দোষারোপ করবার উপায় বিশেষ নাই। তিনি তার কাজটা করে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। নিজের আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার প্রয়াশে, লড়াই করেছেন মস্তিষ্কের গেঁথে থাকা ভয়াল স্মৃতির সাথে। তবুও দিনশেষে থাকতে হয়েছে পরাজিত সৈনিকের বেশে।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link