মেহেদী হাসান মিরাজের করা রানআউট নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই, কেউ বলছেন অযৌক্তিক, কেউ বলছেন সঠিক। তবে ক্রিকেটের নিয়ম বলছে এখানে কোনো ভুল নেই। সালমান আলী আঘার নির্বুদ্ধিতার সুযোগটাই মিরাজ নিয়েছেন। এখানে স্পিরিট অব গেমের কোনো হিসাব-নিকাশ আদতে নেই।
ক্রিকেট মাঠে একজন বোলারের কাজ ব্যাটারের উইকেট নেওয়া। শুধু বোলার কেন, মাঠে থাকা ১১ জনেরই যে একটাই লক্ষ্য—কিভাবে প্রতিপক্ষকে কাবু করা যায়। মিরাজ এবং বাংলাদেশ দল সেই কাজটাই করেছেন সালমানকে রান আউট করে।
মিরাজের ফ্ল্যাট ডেলিভারি মোহাম্মদ রিজওয়ান ফ্লিক করেন। অপর প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা সালমানের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় মিরাজ সেটাকে পা দিয়ে আটকে দেন। এখানে প্রশ্ন হচ্ছে, বলটা যদি আটকানো না যেত, সালমান-রিজওয়ানরা কি সিঙ্গেল নিতেন না? অবশ্যই নিতেন। পপিং ক্রিজের বাইরে সেকারণেই যে গিয়েছিলেন সালমান।

বলটা তাঁর পায়ের নিচে পড়ে থাকে। হাতে পর্যাপ্ত সময় ছিল পপিং ক্রিজে ঢুকে পড়ার। তবে সালমান সেটা না করে হাত দিয়ে কুড়িয়ে নিতে যান। কৌশলী মিরাজ ছোঁ মেরে বলটা নিয়ে আন্ডারআর্ম থ্রোতে স্টাম্প ভাঙেন এবং আউটের জন্যই জোরালো আবেদন করেন। বলে রাখা ভালো, বলটা কিন্তু সালমান এক মুহূর্তের জন্যও হাতে নেননি। আবার এমনটাও ঘটেনি যে তিনি মিরাজকে বল কুড়িয়ে দিয়েছেন, মিরাজ সেটার অপব্যবহার করে তাঁকে আউট করেছেন।
অনেকে বলতে পারেন, মিরাজের উপকারই সালমান করতে চেয়েছিলেন। তবে ক্রিকেট মাঠে পপিং ক্রিজের বাইরে দাঁড়িয়ে প্রতিপক্ষের উপকার করা স্রেফ বোকামি ছাড়া কিছুই না।
এবার আসা যাক স্পোর্টসম্যানশিপের প্রসঙ্গে। মিরাজ নাকি এই শব্দটা ভুলে বসেছিলেন। মিরাজ এখানে নিয়মবহির্ভূত কিছুই করেননি, স্রেফ আউট করেছেন। স্পোর্টসম্যানশিপের ব্যাপারটা তখনই আসত, যদি সালমান ক্র্যাম্প করতেন, ফিরে আসার সময় পড়ে যেতেন। এসবের কিছুই যে সেখানে ঘটেনি।

বরং আউট হয়ে যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন সালমান, সেটাই কিছুটা অবাক করার মতো। ভালো হতো যদি প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড়দের দিকে কটু কথা না ছুড়ে নিজের বোকামির জন্য নিজেকে ধিক্কার জানাতেন। মিরাজ যে কোনোভাবেই নিয়ম ভঙ্গ করেননি।
Share via:











