বলয় ভাঙতে চাচ্ছিলেন সাইফ হাসান। পারলেন না, বোল্ড হলেন শাহীন আফ্রিদির বলে। পাগলাটে চেষ্ট। অ্যাঙ্গেল ইন ডেলিভারির লাইন মিস করলেন, ফিরতে বাধ্য হলেন সাজঘরে।
ফেরার আগে করলেন ৫৫ বলে ৩৬ রান। সাড়ে ৬৫ স্ট্রাইক রেটের ইনিংস দিয়ে যেন সাইফ হাসান নয়, আক্ষেপ বাড়ল সৌম্য সরকারের।
সৌম্য যে একাদশে থাকবেন, আজকে সেটা বুঝতে বিরাট কোনো ক্রিকেট পন্ডিত হওয়ার দরকার পরে না। কিন্তু, দলটা বাংলাদেশ বলেই তিনি নেই। এখানে একাদশ গঠনের কোনো প্রোসেস মেনে ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না।
সর্বশেষ দুই আন্তর্জাতিক ইনিংসে ৪৫ ও ৯১ রানের ইনিংস খেলা সৌম্য তাই একাদশের বাইরে। টানা দুই ওয়ানডেতে ব্যর্থ সাইফ হাসান তৃতীয় ওয়ানডেতে আরেকবার ব্যর্থ হলেন।

ম্যাচের আগের রাতেই সৌম্য স্যোশাল মিডিয়াতে একটা ছবি পোস্ট করেন, তিনি দাঁড়িয়ে বাউন্ডারি লাইনের বাইরে। মানে, আগেই দল থেকে বার্তা পেয়েছিলেন, শেষ ম্যাচেও থাকতে হবে মাঠের বাইরেই।
দল নির্বাচনের প্রতিটি সিদ্ধান্তের পেছনে অবশ্যই কিছু যুক্তি থাকে। টিম ম্যানেজমেন্ট সব সময়ই কোনো না কোনো ব্যাখ্যা দাঁড় করাতে পারে। কিন্তু কখনো কখনো সেই ব্যাখ্যাগুলোও খুব ভঙ্গুর মনে হয়। সৌম্য সরকারকে একাদশের বাইরে সিদ্ধান্তটাও যেন ঠিক তেমনই—ব্যাখ্যা দেওয়া যায়, কিন্তু বিশ্বাস করা কঠিন।
সৌম্য সরকারের গল্পটা বরাবরই একটু আলাদা। তিনি এমন একজন ক্রিকেটার, যাকে আপনি সহজে ব্যাখ্যা করতে পারবেন না। অনেক দিন রান পাবেন না, আবার হঠাৎ একদিন এমনভাবে খেলবেন—সব সমালোচনা মুহূর্তে উধাও হয়ে যাবে।
ধারাবাহিকতার প্রশ্ন তার সঙ্গে বরাবরই জড়িয়ে আছে। কখনো ধারাবাহিক রান নেই, কখনো আবার ধারাবাহিক ব্যর্থতাও আছে। কিন্তু সব হিসাবের বাইরে একটা জিনিস ঠিকই রয়ে গেছে—তার ভেতরে লুকিয়ে থাকা সম্ভাবনা।

এই কারণেই সৌম্যকে অনেক সময় একটা বাজি বলা হয়। আধুনিক ক্রিকেটে যে ধরনের সাহসী ক্রিকেট দরকার, তার মধ্যে সেই ঝুঁকিটা থাকে। আপনি যদি সেই ঝুঁকি নিতে পারেন, যদি তাকে সময় দিতে পারেন—তাহলে সৌম্য সরকারের মতো একজন ক্রিকেটার দলকে ভিন্ন মাত্রা দিতে পারেন।
পরিসংখ্যানও সেই গল্পটাই বলে। বাংলাদেশের হয়ে দ্রুততম দুই হাজার রান করার রেকর্ড এখনও সৌম্য সরকারের। তালিকার দ্বিতীয় নাম লিটন দাস। এই তথ্যটা শুধু সৌম্যের সামর্থ্যই দেখায় না, বরং বাংলাদেশের ক্রিকেটের বাস্তবতাও খানিকটা সামনে এনে দেয়। কারণ সত্যিটা অস্বীকার করার উপায় নেই—বিশ্ব ক্রিকেটের মানদণ্ডে বাংলাদেশ এখনও বেশ খানিকটা পিছিয়ে।
বিশ্বমানের ক্রিকেট খেলতে হলে শুধু নিরাপদ পথ ধরলেই হয় না। কখনো কখনো একটু ঝুঁকিও নিতে হয়। ভিন্ন কিছুতে বাজি ধরতে হয়। সেই বাজির নাম যদি হয় সৌম্য সরকার—তাহলে সেটা নিছক আবেগ নয়, বরং সাহস দেখানো। বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্টে সেই সাহস দেখাতে পারেনি।










