বাংলাদেশের ক্রিকেটে ‘ডেডিকেশন’ শব্দটা উচ্চারণ করলেই একজনের মুখচ্ছবি ভেসে ওঠে – মুশফিকুর রহিম। তিন ফরম্যাটেই একশোটি করে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা বাংলাদেশের একমাত্র সারথি তিনি। আধুনিক ক্রিকেটের ইনজুরি আর ফর্মের উত্থান-পতনের যুগে মুশফিকের এই রেকর্ডটা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যেকোন ক্রিকেটারের জন্যেই হিমালয়সম।
আজকের বাংলাদেশ দলে তাকালে দেখা যায়, সবাই কোন না কোন ফরম্যাটে নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছেন। মুস্তাফিজুর রহমানের বাঁহাতি জাদু ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টিতে যতটা সপ্রতিভ, টেস্টে ঠিক ততটাই ধূসর। এই ফরম্যাটকে ঘিরে যেন বিন্দু মাত্রও আগ্রহ নেই দ্যা ফিজ-এর।
অন্যদিকে মেহেদী হাসান মিরাজ কিংবা নাজমুল হোসেন শান্ত বড় দুই ফরম্যাটে নিয়মিত। তাওহীদ হৃদয় কিংবা পারভেজ ইমনদের ক্যালিবারের খেলোয়াড়দের নিয়েও স্বাভাবিকভাবেই ম্যানেজমেন্টের পরিকল্পনা সাদা বলকে ঘিরেই।

আবার মুমিনুল হক কিংবা তাইজুল ইসলামের মতো কেউ যদি শুভ্র বসনের ফরম্যাটে নিজের দক্ষতার পরিচয় দেন, তাহলে অতি সত্বর তাকে আমরা ‘টেস্ট স্পেশালিষ্ট’ তকমা দিয়ে দিই। সীমিত ওভারের খেলায় সে যেন এক প্রকার নিষিদ্ধ। তাই স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তিন ফরম্যাটেই শত ম্যাচ খেলার মাইলফলক অর্জন করার চিন্তা করাটাও দুষ্কর।
মুশফিকের পর যদি কারোর মধ্যে সেই বিরল সম্ভাবনাটুকু খুঁজে পাওয়া যায়, তবে তিনি লিটন কুমার দাস। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে ইতোমধ্যেই তিনি শতাধিক ম্যাচ খেলে ফেলেছেন। অন্যদিকে টেস্টেও তিনি বাংলাদেশের অন্যতম নিয়মিত মুখ।
ইতোমধ্যেই ৫২টি টেস্ট খেলা হয়ে গেছে লিটনের। মুশফিকের পাশে বসতে হলে তাকে আরও ৪৮টি টেস্ট খেলতে হবে। গত ১১ বছরে তিনি ৫২টি ম্যাচ খেলেছেন, সেই গাণিতিক হিসেবে পথটা আরও এক দশকের। তবে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের এই ঠাসা সূচিতে যদি আগামী ৫-৭ বছর লিটন তার ব্যাটের ধার আর ফিটনেস ধরে রাখতে পারেন, তবেই হয়তো দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে তিনিই এই অভিজাত ক্লাবে প্রবেশ করবেন।

মুশফিকুর রহিম যেখানে দাঁড়িয়ে আছেন, সেই শিখরে পৌঁছানোর অক্সিজেন আমাদের খুব বেশি ক্রিকেটারের নেই। লিটন দাস সেই উচ্চ পাহাড়ের মাঝপথে দাঁড়িয়ে। প্রতিভা লিটনকে স্বপ্ন দেখাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু ইতিহাস তাকে অমরত্ব দেবে কি না – তা নির্ভর করছে আগামী পাঁচ বছরের টিকে থাকার লড়াইয়ের ওপর।











