পাহাড়ঘেরা রুক্ষ জনপদ থেকে উঠে আসা এক অদম্য লড়াইয়ের গল্প। একসময় ছেলেদের ক্রিকেট খেলা নিয়ে যে বাবার ছিল প্রবল অনীহা। অথচ আজ সেই আব্বাস শাহর আঙিনাতেই বইছে গতির ঝোড়ো হাওয়া। বড় ছেলে নাসিম শাহর হাত ধরে শুরু হওয়া সেই লড়াই এখন তিন ভাইয়ের গল্প।
যে হাতগুলো একসময় ছেলেদের ফিরিয়ে নিতে চাইত, আজ সেই হাতগুলোই প্রতিটি উইকেটে প্রার্থনায় নত হয়। এটি এক অনড় পিতার হৃদয়ে ক্রিকেটের বসন্ত নামার উপাখ্যান। নাসিম, হুনাইন আর উবায়েদ – শাহ পরিবারের এই তিন নক্ষত্রই এখন পাকিস্তান ক্রিকেটের আগামীর স্বপ্ন।
পরিবারের অভিভাবক আব্বাস শাহ একসময় ছেলেদের হাতে ক্রিকেট বল দেখতে চাইতেন না। খেলাটি সম্পর্কে তার জানাশোনাও ছিল যৎসামান্য। কিন্তু আজ তিনি ঘোরতর ক্রিকেট অনুরাগী।

হুনাইন বলেন, ‘শুরুর দিকে তিনি ক্রিকেট সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। কিন্তু এখন যেহেতু তাঁর তিন ছেলেই এই খেলায় আছে, তাই তিনি এখন কোনো ম্যাচ বা এমনকি কোনো বল-ও মিস করেন না।’
চলমান পিএসএলে এখন অন্যতম আলোচ্য নাম হুনাইন শাহ। হায়দ্রাবাদ কিংসমানের হয়ে মাত্র নয় ম্যাচে ১৬ উইকেট শিকার করেছেন তিনি। এলিমিনেটরে শেষ ওভারে ছয় রান ডিফেন্ড করে দলকে নিয়ে গেছেন ফাইনালে।
তবে হুনাইন নিজের সাফল্যের সবটুকু কৃতিত্ব দেন বড় ভাই নাসিম শাহকে। তার মতে, ২৩ বছর বয়সী নাসিমই তাদের এই কণ্টকাকীর্ণ পথের দিশারী।

২২ গজে একের অপরের প্রতিপক্ষ হয়ে গতির ঝড় তুললেও, তিন ভাইয়ের মাঝে ব্যক্তিগত রেষারেষি নেই। একই ছাদের নিচে বড় হওয়া এই তিন পেসারের কাছে পারিবারিক বন্ধনই মুখ্য। নাসিমের ৯১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের অভিজ্ঞতা যেমন ছোটদের অনুপ্রাণিত করে, তেমনি বড় ভাই ও বাবার ছায়াতলে থাকা একান্নবর্তী পরিবার তাদের রাখে নির্ভার।
ইতিহাসের দরজায় কড়া নাড়ছে শাহ পরিবার। নাসিম ইতোমধ্যেই পাকিস্তানের জার্সিতে পরিচিত মুখ। এখন শুধু অপেক্ষা হুনাইন ও উবায়েদের আন্তর্জাতিক ক্যাপ মাথায় তোলার। এটি সম্ভব হলে বিশ্ব ক্রিকেট দেখবে একই পরিবারের তিন সহোদর ফাস্ট বোলারের বিরল মহিমা।











