ইতিহাস লিখতে প্রস্তুত এস্তাদিও আজতেকা

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হাত দিয়ে করা সেই ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলটি এই মাঠেই হয়েছিল। একই ম্যাচে অল্প কিছু সময় পরেই ম্যারাডোনা করেছিলেন গত শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ গোলটিও। 

এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়াম, পেলে নিজের শেষ বিশ্বকাপটা এখানেই জিতেছেন, দিয়েগো ম্যারাডোনা এখানেই হাত দিয়ে সেই ঐতিহাসিক গোল করেছেন। শুধু কি তাই, এবার বিশ্বকাপের উদ্ভোধনী ম্যাচ হবে এই স্টেডিয়ামেই। তাতেই অনন্য এক রেকর্ডের সাক্ষী হবে এই স্টেডিয়াম।

বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর আবেগ আর ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবময় মুহূর্তগুলোর সাক্ষী এই মেক্সিকান দুর্গ। কালের নিয়ম মেনে আবারও দুয়ারে কড়া নাড়ছে ফুটবল বিশ্বকাপ, আর আজতেকা স্টেডিয়াম তৈরি হচ্ছে এক অবিস্মরণীয় রেকর্ডের জন্য। ফুটবল ইতিহাসের একমাত্র স্টেডিয়াম হিসেবে এই মাঠেই তৃতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ। উদ্বোধনী এই মহাযুদ্ধে এবার মুখোমুখি হবে মেক্সিকো আর দক্ষিণ আফ্রিকা।

এই সেই স্টেডিয়াম, যেখানে ১৯৭০ সালে ফুটবল সম্রাট পেলে তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ জিতেছিলেন। ইতালিকে হারানোর দিনে পেলে নিজের ক্যারিয়ারের তৃতীয় বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি তুলে ধরেন। আর একই সাথে মেক্সিকোর এই স্টেডিয়াম সেদিন পেলে খেলেন নিজের শেষ বিশ্বকাপের ম্যাচ। 

পেলের ১৬ বছর পর, এই আজতেকা স্টেডিয়ামেই ডিয়েগো ম্যারাডোনা ফুটবল ইতিহাসকে এক অদ্ভুত ঘোর ও বিতর্কে ভাসিয়েছিলেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হাত দিয়ে করা সেই ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলটি এই মাঠেই হয়েছিল। একই ম্যাচে অল্প কিছু সময় পরেই ম্যারাডোনা করেছিলেন গত শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ গোলটিও। 

১৯৭০ এবং ১৯৮৬—ফুটবলের দুটি সেরা সোনালী অধ্যায় উপহার দেওয়ার পর, আজতেকা এবার প্রস্তুত ২০২৬ বিশ্বকাপের মঞ্চ হতে। চার দশক পর আবারও এই ঐতিহাসিক মাঠে জ্বলবে বিশ্বকাপের আলো, গ্যালারিতে ফাটবে উল্লাস। নতুন কোনো ফুটবল নায়ক হয়তো এই মাঠেই লিখবেন তাঁর অমরত্বের নতুন কোনো কাব্য।

মেক্সিকো আর দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্বোধনী ম্যাচ বাদ দিলেও আজতেকায় হবে আরও চারটি ম্যাচ। ফুটবলের দুই বরপুত্র পেলে আর ম্যারাডোনার ইতিহাসের পর এবার নতুন কোন গল্প এই স্টেডিয়ামে লেখা হবে, সেই দিকেই তাকিয়ে থাকবেন বিশ্বজোড়া ফুটবলপ্রেমীরা।

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

Share via
Copy link