খেলা শুরুর আগে সমীকরণটা ছিল কেবল একটা ফুটবল ম্যাচের। কিন্তু শেষ বাঁশি যখন বাজল, ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়াম তখন সাক্ষী হয়ে রইল ৯২ বছরের এক দীর্ঘ অপেক্ষার অবসানের। ১৯৩৪, ১৯৯০ কিংবা ২০১৮ — বিশ্বকাপের মঞ্চে যে দেশটা কখনো জয়ের মুখ দেখেনি, সেই মিশরই আজ ইতিহাস লিখল নিজেদের পায়ে। আর এই মহাকাব্যের চিত্রনাট্য ফুটবল দেবতা যেন লিখে রেখেছিলেন দলের মহাতারকা মোহাম্মদ সালাহর জন্যই।
অথচ ম্যাচের শুরুটা এই রূপকথার পক্ষে ছিল না। প্রথমার্ধের মাত্র ১৫ মিনিটেই টিম পেইনের কর্নার থেকে ফিন সারম্যান যখন বল জালে জড়ালেন, তখন গ্যালারিতে অল হোয়াইটসদের গর্জন। ১-০ তে পিছিয়ে পড়া মিশর তখন বিশ্বকাপের সেই পুরনো ভূত দেখছিল।
কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে মিশর রূপ নিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দলে। ৫৮ মিনিটে মোহাম্মদ হানির পাস থেকে মোস্তফা জিকোর সেই বুলেট গতির গোল যেন ছিল কেবল ট্রেইলার। আসল সিনেমা জমা ছিল ‘মিশরীয় রাজা’ মোহাম্মদ সালাহর পায়ে।

৬৭ মিনিটে স্টেডিয়ামের গ্যালারিকে স্তব্ধ করে দিলেন সালাহ। জিকোর সঙ্গে চোখধাঁধানো এক ওয়ান-টু’র পর সালাহর সেই চেনা বাঁ-পায়ের নিখুঁত শট। নিউজিল্যান্ডের গোলরক্ষককে স্রেফ দর্শক বানিয়ে বল যখন জালে জড়াল, মিশর তখন ২-১ এ এগিয়ে! তবে এখানেই থামেননি ফারাওদের অধিনায়ক। ৮২ মিনিটে সালাহর অ্যাসিস্টে বদলি নামা ট্রেজেগুয়েট চলন্ত বলেই ফিনিশ করলেন অনায়াসে। স্কোরলাইন ৩-১! ১ গোল আর ১ অ্যাসিস্টে মাত্র ১৫ মিনিটের এক ঝড়ে নিউজিল্যান্ডকে লণ্ডভণ্ড করে দিলেন সালাহ।
পরিসংখ্যানও বলছে এই জয়ে কোনো ভাগ্য ছিল না, ছিল নিখাদ আধিপত্য। ১৯টি শটের মধ্যে ৭টিই অন-টার্গেট, পজেশনে এগিয়ে ৫৬%। অতিরিক্ত সময়ের দীর্ঘ ১১ মিনিটের স্নায়ুচাপ সামলে রেফারি যখন শেষ বাঁশি বাজালেন, স্কোরবোর্ডে তখন জ্বলজ্বল করছে — নিউজিল্যান্ড ১-৩ মিশর।
বিশ্বকাপে ইতিহাসের প্রথম জয়! গ্যালারিতে মিশরীয় সমর্থকদের চোখে আনন্দের জল, আর মাঠের বুকে রাজকীয় হাসিতে ডানা মেলছেন মোহাম্মদ সালাহ। ফুটবল বিশ্বকাপ আবারও প্রমাণ করল — নাম কিংবা অতীত নয়, বিশ্বমঞ্চে ইতিহাস লেখে কেবল সাহসীরাই।












