বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘কে’-এর সমীকরণ এখন এতটাই জটিল যে ২৩ জুন, বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে এক অলিখিত ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে পর্তুগাল ও উজবেকিস্তান। নকআউটের টিকিট নিশ্চিত করতে হলে দুই দলের জন্যই এই ম্যাচটি এখন কার্যত বাঁচা-মরার লড়াই।
প্রথম ম্যাচে কঙ্গোর সাথে গোলশূন্য ড্র করে পর্তুগাল এখন খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে। কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচে দলের মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ছিলেন একেবারেই চেনা ছন্দের বাইরে। পুরো ম্যাচে মাত্র ২৫ বার বল ছুঁতে পারা সিআরসেভেনের পা থেকে আসেনি কোনো অন-টার্গেট শট। ব্রুনো ফার্নান্দেস আর বার্নার্দো সিলভাদের মতো বিশ্বমানের মিডফিল্ডাররাও মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের করে নিতে পারেননি। এই ম্যাচে জয় ব্যাতীত অন্য যেকোনো ফলাফল শেষ ষোলোর পথকে অসম্ভব করে তুলবে পর্তুগিজদের জন্য।

অন্যদিকে, কলম্বিয়ার কাছে ৩-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ শুরু করা উজবেকিস্তানেরও পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে। এলদর শোমুরোদভ দলের হয়ে একমাত্র গোলটি পেলেও তাদের রক্ষণভাগের দুর্বলতা স্পষ্ট ধরা পড়েছিল প্রথম ম্যাচেই। তবে দলের ইতালিয়ান কিংবদন্তি কোচ ফাবিও ক্যানাভারো একে দেখছেন বড় সুযোগ হিসেবে। ম্যাচের আগে তিনি স্পষ্টই বলেছেন, বড় দলের বিপক্ষে খেলাটা তাদের জন্য এক ঐতিহাসিক সুযোগ। এই ম্যাচে অন্তত একটি ড্র তুলে নিতে পারলেও তাদের টুর্নামেন্টে টিকে থাকার আশা বেঁচে থাকবে।
ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে মাঠের ভেতরের কিছু খণ্ডযুদ্ধ। গোলের জন্য মরিয়া রোনালদোকে থামানোর কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে উজবেক তরুণ গোলরক্ষক ইউসুপভকে। তেমনি মাঝমাঠের দখল নেওয়ার লড়াইয়ে ব্রুনো ফার্নান্দেসের মুখোমুখি হবেন শুকুরোভ। আর উজবেক আক্রমণের মূল ভরসা শোমুরোদভকে বোতলবন্দী করার গুরুদায়িত্ব থাকবে পর্তুগিজ ডিফেন্ডার রুবেন দিয়াসের কাঁধে।
বর্তমানে ৩ পয়েন্ট নিয়ে এই গ্রুপের শীর্ষে আছে কলম্বিয়া। সমান ১ পয়েন্ট নিয়ে কঙ্গো ও পর্তুগাল আছে পরের অবস্থানে, আর শূন্য পয়েন্ট নিয়ে তলানিতে উজবেকিস্তান। নকআউটের টিকিট পেতে হলে হিউস্টনের এই লড়াইয়ে জয়ের কোনো বিকল্প নেই রোনালদোর দলের। এখন দেখার বিষয়, পর্তুগিজরা নিজেদের চেনা ছন্দে ফিরে রাজকীয় জয় তুলে নেয়, নাকি ক্যানাভারোর শিষ্যরা বিশ্বমঞ্চে নতুন কোনো রূপকথা লেখে।












