ইরাককে উড়িয়ে দিয়ে বিদায় নিল সেনেগাল!

প্রাপ্তির কিছুই ছিল না, তবে রাজকীয়ভাবেই বিদায় নেওয়ার পণ করেছিল সেনেগাল। তাই তো লাল কার্ডে পথ হারানো ইরাকের ওপর রীতিমতো ঝাঁপিয়ে পড়ল তারা।

প্রাপ্তির কিছুই ছিল না, তবে রাজকীয়ভাবেই বিদায় নেওয়ার পণ করেছিল সেনেগাল। তাই তো লাল কার্ডে পথ হারানো ইরাকের ওপর রীতিমতো ঝাঁপিয়ে পড়ল তারা। একের পর এক আক্রমণে বিধ্বস্ত করে শেষ পর্যন্ত ৫-০ গোলের দাপুটে জয়ে বিশ্বকাপের অভিযান শেষ করল সেনেগাল। আর দশজনের ইরাকের জন্য ম্যাচটা পরিণত হলো এক দীর্ঘ দুঃস্বপ্নে।

টরন্টোর মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই আগ্রাসী ছিল সেনেগাল। মাত্র ৪ মিনিটেই সেই চাপের পুরস্কার পেয়ে যায় তারা। দুর্দান্ত এক আক্রমণ থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন হাবিব দিয়ারা। শুরুতেই পিছিয়ে পড়া ইরাক তখনও ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায় ১৩ মিনিটেই।

সাদিও মানেকে নিশ্চিত গোলের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করায় সরাসরি লাল কার্ড দেখেন ইরাকের ডিফেন্ডার রেবিন সুলাকা। দশজনের দলে পরিণত হওয়ার পর থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চলে যায় সেনেগালের হাতে। প্রথমার্ধে আরও কয়েকটি নিশ্চিত সুযোগ তৈরি করলেও ব্যবধান বাড়াতে পারেনি তারা। তাই ১-০ গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় আফ্রিকার দলটি।

দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য আর কোনো দয়া দেখায়নি সেনেগাল।৫৬ মিনিটে  ইসমাইলা সারের গোল দিয়েই শুরু হয় তাদের গোল উৎসব। দ্বিতীয় গোলের ধাক্কা সামলানোর আগেই আরও বড় আঘাত। বদলি হিসেবে মাঠে নেমে মাত্র দুই মিনিটের মধ্যেই দুর্দান্ত শটে তৃতীয় গোলটি করেন পাপে গেয়ে। মুহূর্তেই ম্যাচের সব উত্তেজনা শেষ হয়ে যায়।

কিন্তু সেনেগালের ক্ষুধা তখনও মেটেনি। ৭১ মিনিটে আবারও গোলের দেখা পান পাপে গেয়ে। ব্যক্তিগত জোড়া গোলের পাশাপাশি দলের চতুর্থ গোলটিও এনে দেন তিনি। ইরাকের ক্লান্ত রক্ষণভাগ তখন শুধু বল কুড়ানো ছাড়া আর কিছুই করতে পারছিল না।

শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন ইলিমান এনদিয়ায়ে। ম্যাচের ৮২ মিনিটে আরেকটি দারুণ আক্রমণ থেকে গোল করে স্কোরলাইন ৫–০ করেন তিনি। শেষ কয়েক মিনিটে ইরাকের খেলোয়াড়দের শরীরী ভাষাতেই ফুটে উঠেছিল আত্মসমর্পণের ছবি। যদিও এই জয় নকআউটের দরজা খুলে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল না সেনেগালের জন্য, তবুও বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে বিদায়টা অন্তত মাথা উঁচু করেই নিল তারা।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

Share via
Copy link