এবারের বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ম্যাচ হতে পর্তুগাল আর স্পেনের মধ্যে। হট ফেভারিটের তকমা গায়ে দিয়ে বিশ্বকাপে আসা দুই দলের এক দলকে বিদায় নিতে হবে আগেভাগেই। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো কি পারবেন নিজের শেষ বিশ্বকাপটা হাসি মুখে শেষ করতে, নাকি হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনবে স্পেন; ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজার আগে এসব প্রশ্নই জমা হচ্ছে দর্শকদের মনে।
পর্তুগালের এবারের পথচলাটা ছিল চরম নাটকীয়তায় ভরা। শেষ ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ভাগ্য ঝুলে ছিল প্রযুক্তির হাতে। স্নিকোমিটারে অফসাইড প্রমাণিত হওয়ায় বাতিল হয় ক্রোয়েশিয়ার শেষ মুহূর্তের গোল। বেঞ্চে বসে অসহায় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেন, একই সাথে বেঁচে যায় তাঁর বিশ্বজয়ের স্বপ্ন।
এই জয়ের মাধ্যমে ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবার বিশ্বকাপে পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়িয়ে ম্যাচ জেতার কীর্তি গড়েছে পর্তুগিজরা। তবে, স্পেনের বিপক্ষে আর তাদের গায়ে ফেভারিটের তকমা সেটে দেওয়া যাচ্ছে না। স্কোয়াডে শক্তিমত্তার অভাব না থাকলেও, মাঠে এখনো পর্যন্ত নিজেদের সেরাটুকু বের করতে পারেননি কোচ রবার্তো মার্তিনেজ।

অন্যদিকে, স্প্যানিশ আর্মাডারা অস্ট্রিয়াকে উড়িয়ে দারুণ ছন্দে শেষ ষোলোতে পা রেখেছে। ২০১০ সালের ফাইনালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের কোনো নকআউট ম্যাচ জিতেছে বর্তমান ইউরোপসেরারা। মিকেল ওইয়ারজাবালের সাম্প্রতিক ফর্ম গোলস্কোরারের অভাবটা কিছুটা হলেও কাটিয়ে দিয়েছে স্প্যানিশদের।
স্পেনের আসল শক্তি এখন তাদের জমাট রক্ষণভাগ। মেক্সিকোকে বাদ দিলে স্পেনই একমাত্র দল যারা এখনো কোনো গোল হজম করেনি এবারের বিশ্বকাপে। এই ব্যুহ ভেদ করতে না পারলে আবারও মাথা নিচু করেই মাঠ ছাড়তে হবে ব্রুনো ফার্নান্দেজদেরকে। সাথে তরুণ লামিন ইয়ামালের শৈল্পিক ফুটবল আশা যোগাচ্ছে স্পেনকে।
দুই দলের সর্বশেষ দেখায় স্পেনকে হারিয়ে নেশন্স লিগের শিরোপা ধরে তুলেছিল পর্তুগাল। কিন্তু, বিশ্বকাপের মঞ্চে সকল গল্প বদলে যেতে পারে যেকোনো মুহূর্তে। স্পেন হোক কিংবা পর্তুগাল, অন্যকে এক মুহূর্তের জন্যেও ছাড় দিতে চাইবে না কেউ। আর তাই তো, হাড্ডাহাড্ডি এই লড়াই দেখতে তুমুল আগ্রহ কাজ করছে পুরো বিশ্বের ফুটবল ভক্তদের মধ্যে।











