বিশ্বকাপের নকআউটে আর ভুলের সুযোগ নেই। সেমিফাইনালের টিকিটের লড়াইয়ে রোববার ভোরে কানসাস সিটির অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচের পর শেষ ষোলোতে কেপ ভার্দে ও মিশরকে হারিয়ে টানা পাঁচ জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে আলবিসেলেস্তেরা। আক্রমণে লিওনেল মেসি যেন সময়কে হার মানিয়েছেন। ৩৯ বছর বয়সেও পাঁচ ম্যাচে আট গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবার সামনে আছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
তবে সবকিছুই যে নিখুঁত, তা নয়। কেপ ভার্দের বিপক্ষে ড্র এবং মিশরের বিপক্ষে দুই গোলে পিছিয়ে পড়া দেখিয়েছে, রক্ষণে এখনও কিছু দুর্বলতা রয়েছে। যদিও স্কালোনির বিশ্বাস, দল ম্যাচ নিয়ন্ত্রণেই রেখেছিল। গোলের সুযোগ নষ্ট করা আর কয়েকটি ব্যক্তিগত ভুলই ম্যাচকে কঠিন করে তুলেছিল। তাই সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে পুরো একাদশে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।

সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ নিয়ে। মেসির সঙ্গে শুরু করবেন জুলিয়ান আলভারেজ, নাকি শেষ ম্যাচে বদলি নেমে দারুণ প্রভাব ফেলা লাওতারো মার্টিনেজ—এই সিদ্ধান্ত এখনও নেননি স্কালোনি। একইভাবে রাইট-ব্যাকে নাহুয়েল মোলিনা ও গনসালো মন্টিয়েলের মধ্যে একজনকে বেছে নিতে হবে তাকে। এই দুটি পজিশন ছাড়া বাকি একাদশ অনেকটাই নিশ্চিত বলেই জানা যাচ্ছে।
অন্যদিকে সুইজারল্যান্ড খুব বেশি আলোচনায় না থাকলেও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর শেষ ষোলোতে টাইব্রেকারে কলম্বিয়াকে হারিয়ে শেষ আট নিশ্চিত করেছে মুরাত ইয়াকিনের দল। গ্রানিত জাকা, ম্যানুয়েল আকাঞ্জি ও ব্রিল এমবোলোর অভিজ্ঞতা তাদের শক্তি হলেও আক্রমণভাগে আর্জেন্টিনার সঙ্গে ব্যবধান স্পষ্ট।
ইতিহাসও অবশ্য আর্জেন্টিনার পক্ষেই কথা বলছে। দুই দলের সাত দেখায় পাঁচটিতে জিতেছে আর্জেন্টিনা, বাকি দুটি ম্যাচ হয়েছে ড্র। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত একবারও হারেনি আলবিসেলেস্তেরা। সবশেষ ২০১৪ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচেও অতিরিক্ত সময়ে ১-০ ব্যবধানে জিতেছিল দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।

মিশরের বিপক্ষে নাটকীয় জয়ের পর জয়ী দলের মূল কাঠামো ধরে রাখতেই চাইছেন স্কালোনি। গোলবারে থাকবেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। রক্ষণে থাকার কথা নাহুয়েল মোলিনা বা গনসালো মন্টিয়েল, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও নিকোলাস ট্যাগলাফিকোর। মাঝমাঠে রদ্রিগো ডি পল, এনজো ফার্নান্দেজ, লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের ওপরই ভরসা রাখার সম্ভাবনা বেশি। আর আক্রমণে অধিনায়ক লিওনেল মেসির সঙ্গী হতে পারেন জুলিয়ান আলভারেজ অথবা লাওতারো মার্টিনেজ।
কাগজে-কলমে আর্জেন্টিনাই এগিয়ে। কিন্তু বিশ্বকাপের নকআউটে অতীতের সব হিসাবই মুহূর্তে বদলে যেতে পারে। তাই সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে হলে মেসিদের শুধু ফেবারিট হলেই চলবে না, মাঠেও সেটা প্রমাণ করতে হবে।











