স্পেনের সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত নায়ক

স্পেনের দলে তারকার অভাব নেই। রদ্রি আছেন, পেদ্রি আছেন, ইয়ামাল আছেন। তবু বিশ্বকাপে ভাগ্য নির্ধারণ করে দিচ্ছেন কুকুরেয়া। নি:সন্দেহে দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সৈনিক তিনি। নি:সন্দেহে স্পেনের সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত নায়ক কুকুরেয়া।

মার্ক কুকুরেয়াকে না চিনে উপায় নেই। মাঠে নামলেই সবার আগে চোখে পড়ে তাঁর এলোমেলো, ঘন কোঁকড়ানো চুল। অনেকেই মজা করে বলেন, যেন সিম্পসনস-এর সেই বিখ্যাত চরিত্র সাইডশো বব মাঠে নেমে পড়েছেন।

ফ্রান্সের বিপক্ষে বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে স্পেনের নায়ক হয়েছেন তাঁর চুলের জন্য নয়, লড়াকু মানসিকতার জন্য। কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলেদের মতো আগুনঝরা আক্রমণভাগকে সামনে পেয়েও এক মুহূর্তের জন্য ভেঙে পড়েননি স্পেনের এই লেফট-ব্যাক। নিজের ডেজিগনেটেড পজিশনের বাইরে গিয়ে তারকায় ঠাসা স্প্যানিশ আক্রমণের প্রাণভোমরা হয়ে উঠেছেন তিনি।

পুরো ৯০ মিনিট মাঠ চষে বেড়িয়েছেন। জিতেছেন গুরুত্বপূর্ণ দুটি ট্যাকল। আর ম্যাচের সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্ত গোললাইন থেকে তাঁর সেই অবিশ্বাস্য ডিফ্লেকশন। এমবাপ্পের শট যখন জালে জড়ানোর অপেক্ষায়, ঠিক তখনই শেষ মুহূর্তে সামনে এসে বলের গতিপথ বদলে দেন কুকুরেয়া। অ্যাকুরেট পাস একাই দিয়েছেন ৩৮, তাতেই গড়ে উঠেছে স্পেনের ভাগ্য।

২০২৬ বিশ্বকাপ কুকুরেয়াকে আলাদা করে চিনিয়ে দিচ্ছে। স্পেনের জার্সিতে তিনি হয়ে উঠেছেন এমন এক অস্ত্র, যাকে ছাড়া হয়তো লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল এতদূরই আসতে পারত না।

তাঁকে আর শুধু প্রচলিত ডিফেন্ডার হিসেবে খেলানো হচ্ছে না। বরং সুযোগ পেলেই তিনি ছুটে যাচ্ছেন প্রতিপক্ষের বক্সে। কখনও উইঙ্গারের মতো, কখনও অতিরিক্ত ফরোয়ার্ডের মতো।

স্পেনের আক্রমণের নতুন রাস্তাটাই এখন বানিয়ে দিচ্ছে কুকুরেয়ার দৌড়। দ্রুত দিক বদলে দেওয়া পাস, কিংবা দূরের পোস্টে ভেসে আসা বল—সবকিছুর শেষ গন্তব্য যেন সেই কোঁকড়ানো চুলের মানুষটি।

স্পেনের দলে তারকার অভাব নেই। রদ্রি আছেন, পেদ্রি আছেন, ইয়ামাল আছেন। তবু বিশ্বকাপে ভাগ্য নির্ধারণ করে দিচ্ছেন কুকুরেয়া। নি:সন্দেহে দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সৈনিক তিনি। নি:সন্দেহে স্পেনের সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত নায়ক কুকুরেয়া।

লেখক পরিচিতি

সম্পাদক

Share via
Copy link