সময়ের দুই অনন্য গোলরক্ষকের মহারণ

এমিলিয়ানো কি পারবেন আবারও আর্জেন্টাইনদের স্বপ্নের ট্রফি এনে দিতে? নাকি উনাই সিমনের গ্লাভসেই লা রোজারা ফিরে পাবে ১৬ বছর আগের হারানো বিশ্বজয়ের মুকুট?

মেটলাইফ স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে যখন লিওনেল মেসি আর লামিন ইয়ামালের পায়ের জাদু দেখার অপেক্ষায় আছে গোটা দুনিয়া, তখন শিরোপার ফয়সালা হয়ে যেতে পারে গোলবারের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা দুই প্রহরীর গ্লাভসে। রবিবারের বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ আর স্পেনের উনাই সিমন যেন সময়ের এক অনন্য মহারণের গল্প লিখতেই মুখিয়ে আছেন।

একজনের রক্তে উন্মাদনার পারদ, অন্যজন যেন শান্ত সমুদ্রের প্রতিচ্ছবি। আর্জেন্টিনার এমি মার্টিনেজ মানেই মাঠের ভেতর এক অটল পর্বত। ২০২২ বিশ্বকাপের অতিরিক্ত সময়ের সেই অবিশ্বাস্য সেভ আর স্নায়ুযুদ্ধে প্রতিপক্ষকে ভড়কে দেওয়ার কারিকুরি দেখাতে তিনি সিদ্ধহস্ত। চাপের সময় তিনি থাকেন নির্বিকার। হৃদয়ে থাকে আগ্রাসনের মন্ত্র। এবারের আসরে তার চুলের নীল-সাদা রঙ আর শরীরের অদম্য ভঙ্গি যেন স্পষ্ট করে দেয় তিনি আলবেসিলেস্তদের গোলবারের অতন্দ্র প্রহরী।

মুদ্রার উল্টো পিঠে সুদৃঢ় দেয়ালের মতো দাঁড়িয়ে আছেন স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমন। পাদপ্রদীপের আলোয় থাকার চেয়ে নীরবে খেলার শৃঙ্খলা রক্ষাতেই বেশি আগ্রহ তার। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে চাকরি করা পিতা-মাতার সন্তান হিসেবে বিষয়টি ভালোভাবেই রপ্ত করেছেন তিনি। সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নিজেকে দূরে রেখে নীরবতাকেই নিজের শক্তি বানিয়েছেন সিমন।

এবারের আসরে কোয়ার্টার ফাইনালের আগ পর্যন্ত সিমন ছিলেন দুর্ভেদ্য এক দেয়াল। বেলজিয়ামের কাছে একটি গোল হজম বাদে বাকি ছয় ম্যাচেই ক্লিন শিট রেখে তিনি প্রমাণ করেছেন স্পেনের রক্ষণ কেন তাকে নিয়ে এতটা নির্ভার।

নিউ জার্সিতে আসন্ন লড়াইটা তাই শুধু দুটি দেশের নয়। দুই গোলরক্ষকের ভিন্ন দর্শনেরও। এমিলিয়ানো কি পারবেন আবারও আর্জেন্টাইনদের স্বপ্নের ট্রফি এনে দিতে? নাকি উনাই সিমনের গ্লাভসেই লা রোজারা ফিরে পাবে ১৬ বছর আগের হারানো বিশ্বজয়ের মুকুট? ফুটবল বিধাতার ৯০ মিনিটের রোমাঞ্চকর স্ক্রিপ্টেই আছে উত্তর।

লেখক পরিচিতি

সাব এডিটর

Share via
Copy link