কুইন্স পার্ক ওভালের সবুজ গ্যালারিতে যখন বিকেলের আলো হারিয়ে যাচ্ছিল, ততক্ষণে আবদুল্লাহ শফিকের ব্যাট থেকে বেরিয়ে এসেছে এমন এক ইনিংস, যা দিন কয়েক আগেও কল্পনায় ছিল না। বদলী হিসেবে ক্যারিবিয়ানে উড়ে আসা এই ওপেনার যেন প্রমাণ করে দিলেন, সুযোগ পেলে সময়ের অপেক্ষা করেন না তিনি। ১৮৫ বলে অপরাজিত ১০৭, দশটি চার আর দুটি ছক্কায় সাজানো ইনিংসে তুলে নিলেন ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ টেস্ট শতক। আর তার পাশে দাঁড়িয়ে বাবর আজম যেন খুঁজে পেলেন হারানো ছন্দ, ১২৬ বলে অপরাজিত ৮৬ রানের ইনিংসটি তার ব্যাটে সবচেয়ে বড় সংগ্রহ সেই ২০২২ সালের ডিসেম্বরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৬১ রানের ইনিংসের পর থেকে।
অথচ দিনের শুরুটা এমন মসৃণ ছিল না। আজান আওয়াইস আর ইমাম-উল-হকের ব্যাটে ভালো শুরুর পরও চা-বিরতির আগে দুটি উইকেট হারিয়ে কিছুটা টলমল করেছিল পাকিস্তান। শামার জোসেফের লিফটিং ডেলিভারিতে ফেরেন ইমাম, আর সুইপ খেলতে গিয়ে জোমেল ওয়ারিক্যানের বলে ধরা পড়েন হাফসেঞ্চুরি করা আজান।
২ উইকেটে ১৩৯—এখান থেকেই শুরু শফিক আর বাবরের প্রতিরোধ, যা শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় অবিচ্ছিন্ন ১৬৮ রানের জুটিতে। জাস্টিন গ্রিভসের চোট আর পিচের ধার কমে আসায় ওয়ারিক্যান-শামারদের ওপর ভরসা করতে হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে, কিন্তু প্রতিটি সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন দুই পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান।

এর আগে ২৩৯ রানে পাঁচ উইকেট নিয়ে দিন শুরু করা ওয়েস্ট ইন্ডিজ থামে ৩৪৪ রানে। গ্রিভসের ৭৩, চেজের ৫০ ছাড়িয়ে যাওয়া ইনিংস স্বাগতিকদের লড়াইয়ের পুঁজি দিলেও সাজিদ খানের ৮৫ রানে ৪ উইকেট শিকার শেষ পর্যন্ত লেজ ছেঁটে ফেলে দ্রুতই।
দ্বিতীয় দিন শেষে পাকিস্তান ২ উইকেটে ২৬৬, পিছিয়ে মাত্র ৭৮ রানে, হাতে আট উইকেট। প্রথম টেস্টে ব্যাটিং বিপর্যয়ে ডুবে যাওয়া দলটা কি তবে এই টেস্টেই ফিরে পাচ্ছে হারানো আত্মবিশ্বাস?











