আন্ডারডগদের জাগরণের এক অমোঘ রূপকথা

এক বছর আগেই অবনমন থেকে কোনোমতে বেঁচে ফেরা লেস্টার অবিশ্বাস্যভাবে উঠে আসে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে। ভার্ডির টানা ১১ ম্যাচে গোল করার অনবদ্য রেকর্ড, মাহরেজের পায়ের কারুকাজ, কান্তের বুলেট গতি, ওকাঝাকির কার্যকর স্ট্রাইক আর ফুকসদের জমাট রক্ষণ ফুটবলপ্রেমীদের মৌসুমজুড়ে করে রাখে মন্ত্রমুগ্ধ।

ফুটবলের নানা ইভেন্টে প্রায়শই ছোট দলগুলো আলো কেড়ে নেয় নিজেদের দিকে। কিন্তু ২০১৬ সালে দুনিয়া ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে আন্ডারডগদের যে অদ্ভুত জাগরণ প্রত্যক্ষ করেছিল, তা যেন সবকিছুকেই ছাপিয়ে যায়। বাঘা বাঘা জায়ান্টদের আধিপত্য গুঁড়িয়ে সেবার শিরোপা জিতে নেয় লেস্টার সিটি। দ্বিতীয় ও তৃতীয় হয় অখ্যাত টটেনহ্যাম হটস্পার আর ওয়েস্টহ্যাম ইউনাইটেড। এ যেন আন্ডারডগদের অমোঘ ফুটবলীয় রূপকথা, যার পরতে পরতে আছে স্বপ্ন-সংগ্রামের জিয়নকাঠির ছোঁয়া!

২০১৬ সালের মার্চ মাসকে প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসের সবচেয়ে পাগলাটে সময়গুলোর একটি বলে মনে করেন বোদ্ধারা। আগের মৌসুমের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন চেলসি তখন ফর্মের খেই হারিয়ে লিগ টেবিলের ১০ নম্বরে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড যথারীতি খেলছিল নিরস এবং ম্যাড়মেড়ে ফুটবল। ব্রেন্ডন রজার্সের বদলে ইয়ুর্গেন ক্লপকে এনে লিভারপুলও ছিল পালাবদলের সন্ধিক্ষণে।

এদিকে, ম্যানচেস্টার সিটি প্রহর গুনছিল পেপ গার্দিওলার ট্যাকটিক্যাল জাদুর জন্য। আর্সেনাল খেলোয়াড়রাও পারছিলেন না নিজেদের স্বমহিমায় মেলে ধরতে। বড় দলগুলোর এই ছন্দপতনই আন্ডারডগদের জন্য খুলে দেয় সম্ভাবনার দুয়ার।

বড়দের ব্যর্থতার ভিড়ে ২০১৫-১৬ মৌসুমে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে প্রিমিয়ার লিগের ছোট ক্লাবগুলো। ওয়েস্টহ্যাম দিমিত্রি পায়েতের দুর্দান্ত ফ্রি-কিক জাদু আর উইঙ্গার মিখাইল অ্যান্টনিওয়ের ফুটবল কারিকুরিতে উড়তে থাকে। টটেনহ্যামে হ্যারি কেন, সন হিউং-মিন আর দেলে আলিরা অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে চুরমার করতে শুরু করেন।

তবে সবাইকে ছাপিয়ে রূপকথার মহানায়ক হয়ে ওঠে ক্লদিও র‍্যানিয়েরির লেস্টার সিটি। মাত্র এক বছর আগেই অবনমন থেকে কোনোমতে বেঁচে ফেরা দলটা অবিশ্বাস্যভাবে উঠে আসে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে।

জেমি ভার্ডির টানা ১১ ম্যাচে গোল করার অনবদ্য রেকর্ড, রিয়াদ মাহরেজের পায়ের কারুকাজ, এনগোলো কান্তের বুলেট গতি, শিনজি ওকাঝাকির কার্যকর স্ট্রাইক আর ক্রিস্টিয়ান ফুকসদের জমাট রক্ষণ ফুটবলপ্রেমীদের মৌসুমজুড়ে করে রাখে মন্ত্রমুগ্ধ। টটেনহ্যাম গুরুত্বপূর্ণ সময়ে স্নায়ুচাপে কিছুটা ভেঙে পড়লেও র‍্যানিয়েরির লেস্টার ছিল নির্ভার শিরোপার লক্ষ্যে।

মৌসুমটিতে কোনো মহাতারকা ছাড়াই ক্লাবগুলো প্রমাণ করে দেয় ফুটবলে অসম্ভব বলে কিছু নেই। দলবদ্ধ পারফরম্যান্স, দৃঢ় মনোবল, জেতার ক্ষুধা আর নিরলস শ্রমের মেলবন্ধনে যে দুনিয়ার সকল কিছুই জয় করা যায়—তা ২০১৬ সালেই লেস্টার, টটেনহ্যাম আর ওয়েস্টহ্যাম সবাইকে দেখিয়ে দেয় বিশ্বের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লিগে নিজেদের ইতিহাস সেরা অবস্থান অর্জন করে!

লেখক পরিচিতি

সাব এডিটর

Share via
Copy link