যে উইকেটে মালয়েশিয়া রান তুলতে হিমশিম খেয়েছে, সেই উইকেটে দাঁড়িয়ে তাণ্ডব চালালেন জিসান আলম। ১৯ বলে ফিফটি হাঁকিয়ে ম্যাচে কোনো সুযোগই দেননি মালয়েশিয়াকে। ৭৫ বল আর সাত উইকেট হাতে রেখেই হেসে-খেলেই দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিও নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ এইচপি দল। সেই সঙ্গে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নিয়ে সফরকারীদের হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় ফেলল জিসান আলমরা।
আগের ম্যাচে রান তাড়া করতে নেমে মাত্র ৬৯ রানে গুটিয়ে যায় মালয়েশিয়া। দ্বিতীয় ম্যাচে অবশ্য আগে ব্যাট করতে নামে তারা। তাতে যে খুব বেশি লাভবান হতে পারেনি মালয়েশিয়া।
ব্যাটারদের লাগাম শুরু থেকেই টেনে ধরে বাংলাদেশ। রান বের করতে প্রতি মুহূর্তেই হিমশিম খেতে হয়েছে মালয়েশিয়াকে। ১৯ রানে দুই উইকেট হারানো দলটা পরবর্তীতে ৫৮ রানের জুটি গড়ে, তবে সেখানে রানের চাকা সচল ছিল না। শেষমেশ চার উইকেট হারিয়ে ২০ ওভার শেষে মাত্র ১০৫ রান তোলে মালয়েশিয়া।

ব্যাট হাতে সর্বোচ্চ ৪০ রান করেন অধিনায়ক সৈয়দ আজিজ, সেটাও ৫২ বল খেলে। বল হাতে মোহাম্মদ রুবেল ছিলেন সবচেয়ে কৃপণ। ২.২৫ ইকোনমির সঙ্গে চার ওভারে নয় রানের বিনিময়ে শিকার করেন এক উইকেট। আবু হায়দার রনির ঝুলিতে যায় দুই উইকেট।
রানের কোনো চাপ নেই। তবে বাংলাদেশের ব্যাটাররা যেন দ্রুত ম্যাচ শেষ করার মিশনে নামে। জাওয়াদ আবরার ঝড় তোলেন শুরু থেকেই। আট বলে ২৩ রানের ক্যামিও উপহার দিয়ে ফেরেন সাজঘরে। তখন দলের রান ২৬। ৩০ রানের মধ্যেই আরিফুল ইসলাম ফিরে যান। তবে মোমেন্টাম হারায়নি বাংলাদেশ।
আবরারের অসমাপ্ত কাজ শেষ করার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন জিসান আলম। যেখানে বল পড়ুক, মূলমন্ত্র একটাই—বলটাকে সীমানার ওপারে পাঠাতে হবে। মাত্র ১৯ বলেই ফিফটির দেখা পান জিসান। শেষমেশ সাত ছক্কা আর দুই চারের সঙ্গে ২৭২ স্ট্রাইক রেটে খেলেন হার না মানা ৫৭ রানের ইনিংস।

সাব্বির রহমান অবশ্য প্রত্যাশা মেটাতে ব্যর্থ হয়েছেন। আট বলে ১২ রানের ইনিংস খেলেই ফিরতে হয় সাজঘরে। তবে তাতে কোনো ক্ষতি হয়নি। ততক্ষণে যে ম্যাচ বাংলাদেশের পকেটে চলে গেছে। পাওয়ার প্লেতেই বাংলাদেশ ৮১ রান তোলে। যেখানে রান তুলতে দিশেহারা হয়ে মালয়েশিয়া, সেখানে জিসান আলম তাণ্ডব চালিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন নিজের দিনে কী করতে পারেন তিনি। এই জয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজটা নিজেদের করে নিল বাংলাদেশ। দুই ম্যাচের বড় ব্যবধানে জিতল স্বাগতিকরা।










