জিসানের ঝড়ে উড়ে গেল মালয়েশিয়া!

রানের কোনো চাপ নেই। তবে বাংলাদেশের ব্যাটাররা যেন দ্রুত ম্যাচ শেষ করার মিশনে নামে। জাওয়াদ আবরার ঝড় তোলেন শুরু থেকেই। আট বলে ২৩ রানের ক্যামিও উপহার দিয়ে ফেরেন সাজঘরে। তখন দলের রান ২৬। ৩০ রানের মধ্যেই আরিফুল ইসলাম ফিরে যান। তবে মোমেন্টাম হারায়নি বাংলাদেশ।

যে উইকেটে মালয়েশিয়া রান তুলতে হিমশিম খেয়েছে, সেই উইকেটে দাঁড়িয়ে তাণ্ডব চালালেন জিসান আলম। ১৯ বলে ফিফটি হাঁকিয়ে ম্যাচে কোনো সুযোগই দেননি মালয়েশিয়াকে। ৭৫ বল আর সাত উইকেট হাতে রেখেই হেসে-খেলেই দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিও নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ এইচপি দল। সেই সঙ্গে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নিয়ে সফরকারীদের হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় ফেলল জিসান আলমরা।

আগের ম্যাচে রান তাড়া করতে নেমে মাত্র ৬৯ রানে গুটিয়ে যায় মালয়েশিয়া। দ্বিতীয় ম্যাচে অবশ্য আগে ব্যাট করতে নামে তারা। তাতে যে খুব বেশি লাভবান হতে পারেনি মালয়েশিয়া।

ব্যাটারদের লাগাম শুরু থেকেই টেনে ধরে বাংলাদেশ। রান বের করতে প্রতি মুহূর্তেই হিমশিম খেতে হয়েছে মালয়েশিয়াকে। ১৯ রানে দুই উইকেট হারানো দলটা পরবর্তীতে ৫৮ রানের জুটি গড়ে, তবে সেখানে রানের চাকা সচল ছিল না। শেষমেশ চার উইকেট হারিয়ে ২০ ওভার শেষে মাত্র ১০৫ রান তোলে মালয়েশিয়া।

ব্যাট হাতে সর্বোচ্চ ৪০ রান করেন অধিনায়ক সৈয়দ আজিজ, সেটাও ৫২ বল খেলে। বল হাতে মোহাম্মদ রুবেল ছিলেন সবচেয়ে কৃপণ। ২.২৫ ইকোনমির সঙ্গে চার ওভারে নয় রানের বিনিময়ে শিকার করেন এক উইকেট। আবু হায়দার রনির ঝুলিতে যায় দুই উইকেট।

রানের কোনো চাপ নেই। তবে বাংলাদেশের ব্যাটাররা যেন দ্রুত ম্যাচ শেষ করার মিশনে নামে। জাওয়াদ আবরার ঝড় তোলেন শুরু থেকেই। আট বলে ২৩ রানের ক্যামিও উপহার দিয়ে ফেরেন সাজঘরে। তখন দলের রান ২৬। ৩০ রানের মধ্যেই আরিফুল ইসলাম ফিরে যান। তবে মোমেন্টাম হারায়নি বাংলাদেশ।

আবরারের অসমাপ্ত কাজ শেষ করার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন জিসান আলম। যেখানে বল পড়ুক, মূলমন্ত্র একটাই—বলটাকে সীমানার ওপারে পাঠাতে হবে। মাত্র ১৯ বলেই ফিফটির দেখা পান জিসান। শেষমেশ সাত ছক্কা আর দুই চারের সঙ্গে ২৭২ স্ট্রাইক রেটে খেলেন হার না মানা ৫৭ রানের ইনিংস।

সাব্বির রহমান অবশ্য প্রত্যাশা মেটাতে ব্যর্থ হয়েছেন। আট বলে ১২ রানের ইনিংস খেলেই ফিরতে হয় সাজঘরে। তবে তাতে কোনো ক্ষতি হয়নি। ততক্ষণে যে ম্যাচ বাংলাদেশের পকেটে চলে গেছে। পাওয়ার প্লেতেই বাংলাদেশ ৮১ রান তোলে। যেখানে রান তুলতে দিশেহারা হয়ে মালয়েশিয়া, সেখানে জিসান আলম তাণ্ডব চালিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন নিজের দিনে কী করতে পারেন তিনি। এই জয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজটা নিজেদের করে নিল বাংলাদেশ। দুই ম্যাচের বড় ব্যবধানে জিতল স্বাগতিকরা।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link