লন্ডনের বুকে কি ফুটবে আবার নীল পদ্ম?

মৌসুম চলাকালীন সময়ে একের পর এক কোচ বদল, প্রিমিয়ার লিগে একের পর এক হার - সব মিলিয়ে ব্লুজদের সবশেষ মৌসুমে এক প্রকার নাজেহাল অবস্থা ছিল। লিগ টেবিলে দশম স্থানে শেষ করার কলঙ্ক মুছে ইউরোপের সেরা মঞ্চে ফেরাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য।

সবশেষ ফিফা ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপে সোনালী ট্রফির দেখা পাওয়া চেলসি এবার ইউরোপ সেরা হওয়ার লিগেও পৌঁছাতে পারেনি। মৌসুম চলাকালীন সময়ে একের পর এক কোচ বদল, প্রিমিয়ার লিগে একের পর এক হার – সব মিলিয়ে ব্লুজদের সবশেষ মৌসুমে এক প্রকার নাজেহাল অবস্থা ছিল। লিগ টেবিলে দশম স্থানে শেষ করার কলঙ্ক মুছে ইউরোপের সেরা মঞ্চে ফেরাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য।

মৌসুম শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে চেলসি ড্রেসিংরুমের সবচেয়ে বড় অস্বস্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশাল আকৃতির স্কোয়াড। প্রধান দলে খেলোয়াড় সংখ্যা ৪০ ছাড়িয়ে ৪১ এ গিয়ে ঠেকেছে। এত বড় স্কোয়াডে সবাইকে পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া বা সন্তুষ্ট রাখা নতুন ম্যানেজার জাবি আলোনসোর জন্য এক চরম পরীক্ষা।

ফুটবলারদের খেলার নিশ্চয়তা দেওয়া, সাইডলাইনে থাকা তারকাদের অসন্তোষ সামাল দেওয়া এবং ড্রেসিংরুমে ইতিবাচক পরিবেশ ধরে রাখাটা এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।

ড্রেসিংরুমের এই ভিড়ের মাঝেই আবার যুক্ত হয়েছে দল পুনর্গঠন ও নতুন স্ট্র্যাটেজির বাস্তবায়ন। আলোনসোর প্রিয় ব্যাক-থ্রি ফর্মেশন কিংবা তাঁর আক্রমণাত্মক ফুটবল দর্শনের সাথে পুরো স্কোয়াডকে দ্রুত মানিয়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিজের পছন্দসই একাদশ চূড়ান্ত করা এবং গত মৌসুমের মতো খেলোয়াড়দের পজিশনগত অস্থিরতা দূর করাই হবে আলোনসোর মূল ট্যাকটিক্যাল কাজ।

এদিকে, দলবদলের নীতিতে আবার এসেছে বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগ ও অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণ। অ্যাস্টন ভিলা থেকে প্রায় ১১৭ মিলিয়ন ইউরোর রেকর্ড ফিতে দলে যোগ দিয়েছেন ইংলিশ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার মরগান রজার্স।

তাঁর পাশাপাশি স্পোর্টিং লিসবনের উদীয়মান উইঙ্গার জিওভানি কেন্ডা ও আতালান্তার ইতালীয় ডিফেন্ডার মার্কো পালেস্ত্রাকে যুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে তরুণদের পাশাপাশি ভারসাম্য আনতে যুক্ত করা হয়েছে ড্যানি ওয়েলবেক ও জর্ডান হেন্ডারসনের মতো অভিজ্ঞ মুখদের।

সবকিছুর উর্ধ্বে চেলসির ওপর ঝুলছে প্রিমিয়ার লিগের টপ চারে ফিরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ নিশ্চিত করার পরম তাগিদ। গত মৌসুমে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার বাইরে থাকা লন্ডনের এই ক্লাবের জন্য ম্যানচেস্টার সিটি, আর্সেনাল ও লিভারপুলের মতো স্থিতিশীল দলগুলোর সাথে রেসে টিকে থাকতে হলে শুরু থেকেই টানা পয়েন্ট তুলতে হবে।

সব মিলিয়ে, ২০২৬-২৭ মৌসুমটি চেলসি কর্তৃপক্ষের জন্য এক বিশাল অগ্নিপরীক্ষা। জাবি আলোনসোর সুশৃঙ্খল ফুটবল দর্শন, বিশাল অর্থনৈতিক বিনিয়োগ এবং সমর্থকদের আকাশচুম্বী প্রত্যাশার চাপ – সবকিছু মিলিয়ে ক্লাবটি এখন এক বড় পরিবর্তনের প্রাক্কালে।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link