ডারউইনের আকাশে মেঘ, বাতাসে হালকা সিমের গন্ধ। আর সেই আবহাওয়াতেই লেখা হলো বাংলাদেশের পেস আক্রমণের নতুন এক গল্প। একাদশ ঘোষণার আগে এবাদত হোসেনকে নিয়ে অনেক প্রশ্ন উঠেছিল। কিন্তু টস হওয়ার পরই সব প্রশ্নের জবাব দিয়ে দিল টিম ম্যানেজমেন্ট। পুরনো সৈনিকের ওপরই আবার ভরসা রাখা হলো। আর সেই ভরসার প্রতিদান দিতে দেরি করলেন না এবাদত নিজেই।
তেইশ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের টেস্ট। ইতিহাস বলে, আগের ছয় দেখায় পাঁচবার হেরেছে বাংলাদেশ, জিতেছে মাত্র একবার। কিন্তু প্রথম সেশনেই যেন সেই ইতিহাসকে চ্যালেঞ্জ জানালেন হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদ আর এবাদত হোসেন।
হাসান মাহমুদের বোলিংয়ে দেখা গেল দারুণ অভিজ্ঞতার ছাপ। নতুন বলে জেক ওয়েদারাল্ডকে বারবার ভুগিয়ে অবশেষে তুলে নিলেন তাকে। এরপর রাউন্ড দ্য উইকেট থেকে ভেতরে ঢোকা বলে ভেঙে দিলেন ট্র্যাভিস হেডের স্টাম্প। দুই উইকেট নিয়ে হাসান যেন বলে দিলেন, বিদেশের মাটিতেও তিনি নেতৃত্ব দিতে জানেন।
তবে একটা মুহূর্তে বাংলাদেশের হৃদয় ভেঙে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছিল। এবাদতের বলে স্টিভেন স্মিথের ক্যাচ তৃতীয় স্লিপে ফেলে দিলেন তানজিদ তামিম। বল দুই হাতে এসেও শেষে ফসকে যায়। তখনও স্মিথের রান মোটে সাত। ক্যাচটা হাতে জমলে হয়তো ম্যাচের রংটাই যেত বদলে। তবু হাল ছাড়েননি এবাদত। মারনাস লেবুশানকে ফিরিয়ে নিজের হতাশা ভুলে গেলেন নিমেষেই।
তাসকিন আহমেদও বসে থাকেননি। ক্যামেরুন গ্রিনকে ফিরিয়ে মধ্যাহ্নভোজের ঠিক আগে বাংলাদেশকে এনে দিলেন সবচেয়ে বড় আনন্দের মুহূর্ত। লাঞ্চে যখন স্কোরবোর্ডে চার উইকেটে চুয়াত্তর রান, তখন প্রশ্ন উঠছে—এই কি সেই বাংলাদেশ, যাদের নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে কখনো ভয় পেত না প্রতিপক্ষ?
তিন পেসার, তিনটি আলাদা গল্প, তবু লক্ষ্য একটাই। প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইন আপকে হাঁটুতে বসিয়ে দেওয়া। একটা সেশনেই তারা প্রমাণ করে দিলেন, বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ আর নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এখন সেটাই প্রতিপক্ষের সবচেয়ে বড় ভয়ের নাম। ডারউইনের এই সকাল শুধু একটা ভালো সেশন নয়, হয়তো এখান থেকেই শুরু হলো বাংলাদেশের পেস বহরের সত্যিকারের সাফল্যের গল্প।












