মানাভ সুথার আর রবীন্দ্র জাদেজার ঘূর্ণিজাদুতে রীতিমতো দিশেহারা শ্রীলঙ্কা। দুজনের স্পিনে একে একে খেই হারিয়েছে লঙ্কান ব্যাটিং লাইনআপ। বৃষ্টির বাধা পেরিয়েও তৃতীয় দিনটা তাই নিজেদের করে নিয়েছে ভারত। দিনের শেষে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও বেশ ভালোভাবেই সফরকারীদের হাতে।
দিনের শুরুতেই ভারতের প্রথম ইনিংস থামে ৪৬২ রানে। লোকেশ রাহুল ও ধ্রুব জুরেলের ফিফটির সঙ্গে দেবদূত পাদ্দিকালের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি—সব মিলিয়ে ব্যাট হাতে স্বস্তির জায়গা তৈরি করেই ইনিংস শেষ করে ভারত।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা একেবারেই স্বস্তির ছিল না শ্রীলঙ্কার। ভারতীয় বোলারদের সামনে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে স্বাগতিকরা। মাত্র ৯০ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে যখন ধুঁকছিল শ্রীলঙ্কা, তখনই লঙ্কান শিবিরে ঘনিয়ে আসে বড় ধসের শঙ্কা।

তবে সেখান থেকেই গল্পটা ঘুরিয়ে দেন নিরোশান ডিকওয়েলা ও দিনুশা। ষষ্ঠ উইকেটে দুজন মিলে গড়ে তোলেন দুর্দান্ত প্রতিরোধ। শতরানের জুটি গড়ে বিপর্যস্ত শ্রীলঙ্কাকে টেনে তোলেন দুজন। ডিকওয়েলার ব্যাট থেকে আসে ৮০ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস। অন্যপ্রান্তে ধৈর্য আর দৃঢ়তায় লড়াই চালিয়ে যান দিনুশা। শেষ পর্যন্ত সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে দলকে কিছুটা স্বস্তি এনে দেন তিনি।
তবে এই প্রতিরোধও শেষ পর্যন্ত ভারতীয় স্পিনের সামনে যথেষ্ট হয়নি। ৭৯.৪ ওভারে ২৮৪ রানে অলআউট হয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। ভারতের ৪৬২ রানের জবাবে ১৭৮ রানে পিছিয়ে থেকেই প্রথম ইনিংস শেষ করে তারা। ফলে তৃতীয় দিন শেষে ম্যাচের চালকের আসনে ভারতই।
গলের উইকেট যেন এদিন আপন করে নিয়েছিল ভারতীয় স্পিনারদের। শ্রীলঙ্কার ১০ উইকেটের আটটিই নিয়েছেন স্পিনাররা। মানাভ সুথারের ঝুলিতে চার উইকেট, রবীন্দ্র জাদেজা নিয়েছেন তিনটি, আর একটি শিকার কুলদীপ যাদবের। পেসাররা মিলে পেয়েছেন মাত্র দুটি উইকেট।স্পিনত্রয়ীর ঘূর্ণিতে লঙ্কান ব্যাটিং যখন বারবার পথ হারিয়েছে, তখন বৃষ্টির বাধা সত্ত্বেও দিনের শেষ হাসিটা হেসেছে ভারত।











