পাকিস্তানকে টেস্টে যেভাবে প্রথমবার হারিয়েছিল বাংলাদেশ

পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয়, নিছক কোনো জয় ছিল না বাংলাদেশের জন্য। বরং এটি ছিল লাল-সবুজের ক্রিকেটের এক নতুন শুরুর আভাসও, যা পূর্ণতা পেয়েছে সম্প্রতি ঘরের মাঠে টেস্টে অজিদের পরাজিত করার মধ্য দিয়ে!

২০২৪ সালের ২৪ আগস্ট। পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে শোনা গেল বাঘেদের ভয়ানক গর্জন! এ যেন একটি ইতিহাসের জন্ম! ব্যাপারটা আসলেই তাই। ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ বহুবার জিতলেও, ক্রিকেটের দীর্ঘ ফরম্যাটে দেশটির বিপক্ষে জয় অধরা ছিল টাইগারদের।

পাকিস্তানের ঘরের মাঠে তাই সেবার ১০ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে জিতে বিদেশের মাটিতে টেস্ট জয়ের খরা কাটায় বাংলাদেশ। সেসময়ে বিগত সাত বছরে দেশের বাইরে সাকিব-মুশফিকরা মাত্র দুটি টেস্ট জিতেছিলেন। বাংলাদেশের দামাল ছেলেদের সেই বীরত্বগাথার দিকে ফ্ল্যাশব্যাক করা যাক্।

রাওয়ালপিণ্ডিতে বাংলাদেশের জয়ের মূল ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন অভিজ্ঞ উইকেটকিপার-ব্যাটার মুশফিকুর রহিম। পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে ৪৪৮ করার পর জবাবে, তাঁর অনবদ্য ১৯১ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশকে দেয় ৫৬৫ রানের পাহাড়সম সংগ্রহ। সঙ্গে ওপেনার সাদমান ইসলাম ৯৩, মেহেদী হাসান মিরাজ ৭৭ এবং মুমিনুল হক অর্ধশতক করে দলকে এগিয়ে দেন।

ম্যাচের চতুর্থ দিনে মুশফিক আত্মবিশ্বাসের সঞ্চার ঘটান দলের ভেতরে। ফলে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশি বোলাররা নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দেন। পঞ্চম দিনের সকাল থেকেই শুরু হয় বাংলাদেশি বোলারদের তাণ্ডব। তরুণ পেসার নাহিদ রানা প্রায় ১৫০ কিমি গতিতে বাবর আজমকে পরাস্ত করেন। এরপর সাকিব আল হাসানের ঘূর্ণিতে শূন্য রানে স্টাম্পড হন সৌদ শাকিল।

এরপরই দৃশ্যপটে আসেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ম্যাজিক্যাল স্পিনে মাত্র ২১ রানে চার উইকেট তুলে নেন তিনি। আর সাকিব নেন তিনটি উইকেট। মোহাম্মদ রিজওয়ান (৫১) ছাড়া বাকি পাকিস্তানি ব্যাটাররা দাঁড়াতেই পারেননি। ফলাফল? দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তান অলআউট মাত্র ১৪৬ রানে। আর বাংলাদেশের সামনে তখন জয়ের লক্ষ্য মাত্র ৩০ রান।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে জাকির হাসান ও সাদমান ইসলাম কোনো উইকেট না হারিয়েই সহজ জয় নিশ্চিত করেন। ফাইন লেগ দিয়ে জাকিরের শেষ চার রাওয়ালপিন্ডির বুকে লিখে দেয় এক অবিনশ্বর বীরত্বগাথা।

পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্ট জয়, নিছক কোনো জয় ছিল না বাংলাদেশের জন্য। বরং এটি ছিল লাল-সবুজের ক্রিকেটের এক নতুন শুরুর আভাসও, যা পূর্ণতা পেয়েছে সম্প্রতি ঘরের মাঠে টেস্টে অজিদের পরাজিত করার মধ্য দিয়ে!

লেখক পরিচিতি

সাব এডিটর

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

আফগান ঘূর্ণির মায়াজালে ধরাশায়ী হবে মিরাজ-রাজারা?

তবে স্পিনের লড়াইয়ে বাংলাদেশকেও খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। দুই বছরের ওয়ানডে পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের স্পিনাররা শিকার করেছেন মোট ৮২টি উইকেট। যদিও চলতি বছরে ১২ ম্যাচে স্পিন থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্তি ২৬ উইকেট, ২০২৫ সালে ১১ ম্যাচে রিশাদ, মিরাজ, তানভীর, নাসুমদের শিকার ছিল ৫৬ উইকেট। গত বছর বাংলাদেশের অধিকাংশ ম্যাচেই স্পিন সহায়ক উইকেট থাকলেও চলতি বছরে দলটি খেলেছে তুলনামূলক স্পোর্টিং উইকেটে। ফলে কন্ডিশনের সহায়তা পেলে বাংলাদেশের স্পিনাররাও যে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপে বিপর্যয় নামিয়ে আনতে সক্ষম, তার ইঙ্গিত মিলছে পরিসংখ্যানেই। রিশাদ হোসেনের আক্রমণাত্মক লেগ স্পিন, মেহেদী হাসান মিরাজের নিয়ন্ত্রিত অফ স্পিন, তানভীর ইসলামের বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনের সঙ্গে নতুন সংযোজন রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলাম। বৈচিত্র্য আর কৌশলের সমন্বয়ে প্রতিপক্ষকে মরণকামড় দিতে মরিয়া থাকবে বাংলাদেশও।

Share via
Copy link