টুর্নামেন্টের শুরুটা যেন রূপকথার মতোই হয়েছিল সাব্বির রহমানের জন্য। ২৩ আগস্ট হোবার্ট হারিক্যান একাডেমির বিপক্ষে প্রথম সুযোগেই ব্যাট হাতে ৫৯ রানের ঝলমলে ইনিংস— মনে হয়েছিল, দীর্ঘদিন পর যেন নিজের পুরনো জাত চিনিয়ে দিতে চলেছেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। কিন্তু এরপরের দুই ম্যাচেই ছন্দপতন। ভিক্টোরিয়া সিএ-র বিপক্ষে মাত্র ৫ আর এএস একাডেমির বিপক্ষে ৬— দুটো ইনিংসই থেমে গেল শুরুতেই, প্রশ্ন উঠতে শুরু করল, সেই ৫৯ রানের ইনিংসটা কি নিছকই একটা বিচ্ছিন্ন ঝলক ছিল?
আজ নিউজিল্যান্ড এ-র বিপক্ষে সেই প্রশ্নেরই যেন জবাব দিলেন সাব্বির। বাংলাদেশ এইচপি টপ অর্ডারে তখন আরিফুল ইসলামের ৪৮ বলে ৭১ রানের লড়াকু ইনিংসে ভর করে গড়ে উঠেছিল একটা মজবুত ভিত। কিন্তু আরিফুল ফেরার পর আর শামীম হোসেনের দ্রুত বিদায়ের পর ইনিংসটা আবারও নড়বড়ে হয়ে পড়ার শঙ্কা জেগেছিল। ঠিক তখনই ক্রিজে দাঁড়িয়ে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন সাব্বির।
৩৬ বলে অপরাজিত ৬২ রানের ইনিংসে ছিল ছয়টি বাউন্ডারি আর দুটো বিশাল ছক্কা, স্ট্রাইক রেট ছুঁয়েছে ১৭২-এর ঘর। শেষ পাঁচ ওভারে বাংলাদেশ তুলেছে ৫৭ রান, যার সিংহভাগ কৃতিত্বই তাঁর ব্যাটে। ইনিংসের শেষ ওভারে জশ ক্লার্কসনকে পরপর বাউন্ডারি-ছক্কায় শাসন করে দলকে পৌঁছে দেন ১৮১ রানের-এর লড়াকু সংগ্রহে।

আরিফুল যদি এই ইনিংসের ভিত গড়ে দিয়ে থাকেন, সাব্বির দিয়েছেন সেই ভিতের ওপর ছাদ— দুজনের ব্যাটেই নিউজিল্যান্ড এ-কে আজ তাড়া করতে হবে বড় এক লক্ষ্য। টুর্নামেন্টে শুরুর ৫৯ রানের পর মাঝের দুটো ব্যর্থতা যেন সাব্বিরকে শিখিয়েছিল ধৈর্যের পাঠ, আর আজকের ইনিংসে সেই শিক্ষারই প্রতিফলন দেখা গেল— শুরুটা ধীরে করেও শেষদিকে আগ্রাসী হয়ে ওঠা, ঠিক যেন অভিজ্ঞতার ছাপ।
দুই ব্যর্থতার পর একটা বড় ইনিংস কি সাব্বিরকে আবার তাঁর পুরনো ফর্মে ফিরিয়ে আনার ইঙ্গিত দিচ্ছে, নাকি এটাও থেকে যাবে টুর্নামেন্টের আরেকটা বিচ্ছিন্ন ঝলক হয়ে?












